নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পুজোয় গোরুমারায় পর্যটক টানতে এবার হাতিই ‘ইউএসপি’ বনদপ্তরের। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্প। মূর্তি নদীতে পর্যটকদের হাতি-স্নান দেখাতে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন বনকর্মীরা। সঙ্গে থাকছে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে হাতির সঙ্গে সেলফি তোলার সুযোগ। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে সেলফি জোন। ঘুরিয়ে দেখানো হবে হাতির ‘পাঠশালা’! কীভাবে কুনকি তৈরির জন্য হস্তিশাবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, হস্তি বিশারদরা কোন ভাষায় কথা বলেন হাতির সঙ্গে, সবটাই চাক্ষুস করা যাবে সেখানে। একইসঙ্গে নদীতে স্নান সেরে পিলখানায় ফেরার পর কীভাবে সাজিয়ে তোলা হয় কুনকিদের, সেই রূপটানের খুঁটিনাটিও প্রত্যক্ষ করতে পারবেন পর্যটকরা। জানতে পারবেন হাতির সারাদিনের মেনু থেকে ডিউটি রোস্টার! আজ, মঙ্গলবার গোরুমারার ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, হাতিকে কেন্দ্র করেই আমরা পুজোর প্যাকেজ সাজাতে চাইছি। এমনিতে লাটাগুড়ির বিচাভাঙা বনবস্তিতে দুর্গাপুজো হয়ে থাকে। আর পাঁচটা দুর্গাপুজোর চেয়ে এই পুজো একেবারে আলাদা।
পুজোয় যাঁরা গোরুমারায় বেড়াতে আসবেন, তাঁরা বিচাভাঙায় বনবাসীর মাতৃ আরাধনায় সামিল হতে পারবেন। মাদলের তালে দেবীবরণ থেকে শালপাতায় ভোগ খাওয়া, অনন্য অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরবেন পর্যটকরা। সেইসঙ্গে গোরুমারায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে ডুয়ার্সের অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি হাতির সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, আমরা সেই ব্যবস্থা করছি। ডিএফও বলেন, ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আমরা গোরুমারায় পুজোর পর্যটন সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি। শুধু হাতি-সাফারি করা নয়, আমরা চাইছি পর্যটকরা হাতির সঙ্গে সময় কাটান। হাতির সারাদিনের অ্যাক্টিভিটি দেখুন। হাতিকে বোঝার চেষ্টা করুন। বন্যপ্রাণ রক্ষার পাশাপাশি হাতি-মানুষের সংঘাত রুখতে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্যে। সেই কারণে হাতির পিলখানা থেকে মূর্তি নদীতে পর্যটকদের হাতির স্নান দেখানো কিংবা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে পর্যটকরা যাতে হাতিকে ফ্রেমে রেখে সেলফি নিতে পারেন, তারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ধস-বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তর সিকিম। ধসে বিধ্বস্ত দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়। তাছাড়া শিলিগুড়ি থেকে সিকিমে যাওয়ার রাস্তার হালও ভালো নয়। ফলে এবার পুজোয় ডুয়ার্সে ভিড় আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা। দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস সহ উত্তরবঙ্গে আসার সবক’টি ট্রেনে পুজোর টিকিট শেষ। ডুয়ার্সে পুজোর বুকিং বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হাতিকে মূল আকর্ষণ করে গোরুমারায় পুজোর পর্যটন সাজাতে চাইছে বনদপ্তর। এখন পর্যটকদের জন্য জঙ্গল বন্ধ। খুলবে ১৫ সেপ্টেম্বর। জঙ্গল খুলতেই পুজোর মরশুম শুরু। সেকথা মাথায় রেখেই লাটাগুড়ি, মূর্তি, মৌচুকি, কালীপুর, ধূপঝোরা সহ বিভিন্ন এলাকায় বনদপ্তরের নিজস্ব কটেজগুলি সাজানোর কাজ চলছে। বেশিরভাগ কটেজে বিদ্যুতের পরিবর্তে সৌরআলোর ব্যবস্থা থাকছে। এখনও পর্যন্ত সাফারির হাতির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও পর্যটকদের চাহিদা দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে এদিন জানিয়েছেন গোরুমারার ডিএফও।