Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফালাকাটায় হাতির হামলা, ৩৫ দিনের শিশু সহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

লোকালয়ে হাতির হানায় বাড়ছে আতঙ্ক। কয়েকমাস ধরেই ফালাকাটা ব্লকের গ্রামীণ এলাকায় ঢুকে দাপাচ্ছে হাতি। শুক্রবার রাতে দাঁতাল হাতির হামলায় মৃত্যু হয় ৩৫ দিনের শিশু সহ পরিবারের তিনজনের।

ফালাকাটায় হাতির হামলা, ৩৫ দিনের শিশু সহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
  • ১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ফালাকাটা: লোকালয়ে হাতির হানায় বাড়ছে আতঙ্ক। কয়েকমাস ধরেই ফালাকাটা ব্লকের গ্রামীণ এলাকায় ঢুকে দাপাচ্ছে হাতি। শুক্রবার রাতে দাঁতাল হাতির হামলায় মৃত্যু হয় ৩৫ দিনের শিশু সহ পরিবারের তিনজনের। মর্মান্তিক ঘটনার পর কুঞ্জনগরের বাসিন্দারা আতঙ্কে সিঁটিয়ে আছেন। ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামবাসীদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে বনদপ্তরের উপর। সুর চড়ান জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মানিক রায়। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত সভাপতি মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে ফালাকাটা-কুঞ্জনগর রাজ্য সড়কে চলে অবরোধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে পুলিস ও র‍্যাফ। ছ’ঘণ্টা পর বিডিও অনীক রায় ও আইসি অভিষেক ভট্টাচার্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বাসিন্দারা। এদিনই ওই পরিবারের হাতে ১৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেয় বনদপ্তর। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মাখনরানি দাস (৬৮),  মনোজিৎ দাস (৩২) এবং নবজাতক মনীষা দাস। কুঞ্জনগর গ্রামের বাসিন্দা তাঁরা। গভীর রাতে ১৫-১৬টি হাতির দল জলদাপাড়া জঙ্গল থেকে গ্রামে ঢোকে। কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শুরু করে তাণ্ডব। দলছুট হয়ে একটি হাতি ময়রারডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মোড়ে আসে। মনোজিৎবাবু শৌচকর্ম করতে বাইরে আসতেই দাঁতালটি পিষে দেয় তাঁকে। ছেলের চিৎকার শুনে নাতনিকে নিয়ে বাইরে বের হন বৃদ্ধ মা মাখনরানি। উন্মত্ত দাঁতালটি বৃদ্ধাকেও পিষে দেয়। কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় শিশুটি। এলাকাবাসী ঘর থেকে বেরিয়ে চিৎকার শুরু করলে হাতিটি চলে যায়। স্থানীয়রা তিনজনকেই ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনজনকেই মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা। 
ঘটনার পর বনকর্মীদের দেখা না পেয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সকালেই পথ অবরোধ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বিমল বিশ্বাস, দিলীপ ঘোষরা বলেন, জঙ্গলের ধারে একসময় ফেন্সিং দেওয়া হলেও, বালি মাফিয়ারা ট্রাক্টর নিয়ে যাওয়ার জন্য সেসব খুলে গিয়েছে। ফলে খুব সহজেই হাতি জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢুকছে। তাছাড়া বনদপ্তরও নিয়মিত টহল দেয় না বলে অভিযোগ। 
জলদাপাড়া বনবিভাগের সহকারী বন্যপ্রাণী সহায়ক নবজিৎ দে বলেন, ঘটনায় আমরা শোকাহত। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এদিনই পরিবারটির হাতে ১৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। দু’জনের চাকরির ব্যবস্থাও করা হবে। বিকেলেই পরিবারটির সঙ্গে দেখা করেন ভারপ্রাপ্ত ডিএফও হরিকৃষ্ণান পি জে ও এডিএফও রিয়া গঙ্গোপাধ্যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ