নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির তোতাপাখি বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শুক্রবার তিনি পূর্ব বর্ধমানের কালনা, পূর্বস্থলী, কাটোয়া, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট এবং ভাতারের তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়াররুম পরিদর্শন করেন। বিএলএরা বুথস্তরে গিয়ে কেমন কাজ করছেন, তা তিনি খতিয়ে দেখেন। এদিন তিনি বলেন, বিজেপি যা বলছে, নির্বাচন কমিশন সেটাই করছে। বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে ১০ লক্ষ মানুষ নিয়ে আন্দোলন করব। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের এটা যৌথ ষড়যন্ত্র। বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চাইছে তারা। মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা-বিহার-দিল্লিতে যেভাবে ক্ষমতায় এসেছে। বাংলাতেও সেই একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু, ওরা ভুলে গিয়েছে এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা। এখানে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে লড়াই করব। এদিন মন্ত্রীর সঙ্গে ক্যাম্পে যান তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, দলের নেতা স্বপন দেবনাথ, সংসদ শর্মিলা সরকার সহ অন্যান্যরা।
অরূপবাবু আরও বলেন, ২০০২ সালে এসআইআর দু’বছর ধরে চলেছিল, এবার মাত্র দু’মাসের মধ্যে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। ওরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে, ১০০ বছরেও বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ৭৮ বছর ধরে কেউ এখানে পতাকা তুলছে, তার ১৪ পুরুষ এখানে থেকেছে হঠাৎ তাকে বলা হচ্ছে সে ভারতীয় নয়, এই অমানবিক পরিবেশ বিজেপি তৈরি করেছে। এসআইআর সংক্রান্ত চাপের কারণে এখন পর্যন্ত ৪২জন আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু নির্বাচন কমিশন নীরব। কমিশন বিএলওদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। চাকরি খাওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলেও এমন অত্যাচার হয়নি, যা নির্বাচন কমিশন আর বিজেপি করছে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার অরূপবাবু খণ্ডঘোষ, রায়না, জামালপুর, বর্ধমান উত্তর এবং বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের দলের ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। ৪ ডিসেম্বর তাঁর আউশগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এসআইআরের কাজে যে সমস্ত ব্লক পিছিয়ে রয়েছে সেগুলিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই ব্লকগুলিতে আরও বেশি করে কাজে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।