Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চন্দ্রকোণায় এসআইআরের নোটিশ পেয়ে আতঙ্কে বৃদ্ধের মৃত্যু, চাঞ্চল্য

এসআইআরের নোটিশ পেয়ে ‘আতঙ্কে’ মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। এমনই অভিযোগ ওই পরিবারের সদস্যদের। বৃদ্ধের নাম আলম শেখ (৬৫)।  চন্দ্রকোণা থানার মহেশপুরে বাড়ি।

চন্দ্রকোণায় এসআইআরের নোটিশ পেয়ে আতঙ্কে বৃদ্ধের মৃত্যু, চাঞ্চল্য
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: এসআইআরের নোটিশ পেয়ে ‘আতঙ্কে’ মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। এমনই অভিযোগ ওই পরিবারের সদস্যদের। বৃদ্ধের নাম আলম শেখ (৬৫)।  চন্দ্রকোণা থানার মহেশপুরে বাড়ি। 

Advertisement

ওই বৃদ্ধের পারিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে এসআইআরের শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিএলও নোটিশ দিতে গিয়েছিলেন। সেই নোটিশ পাওয়ার পরই তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তারপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।  সন্ধ্যের পর তিনি মারা যান। যদিও এনিয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে লিখিত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। চন্দ্রকোণা-২এর বিডিও উৎপল পাইক বলেন, এসআইআরের শুনানির নোটিশ পাওয়ার দিনে মহেশপুরে এক জনের মৃত্যু হয়েছে শুনেছি। এনিয়ে কোনও অভিযোগ আসেনি। তাই ওই ব্যক্তির ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আলম শেখ ও তাঁর স্ত্রী নাসিফাজান বিবি নিঃসন্তান দম্পতি। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সামান্য উপার্জনে কোনও রকমে চলত তাঁদের দু’জনের সংসার। বৃহস্পতিবার মহেশপুর ১ নম্বর বুথের বিএলও আসরাফুল্লাহ খান বলেন, নির্বাচন দপ্তরের নির্দেশ মতো আলম শেখের আগামী সোমবার শুনানি রয়েছে। সেই মতো তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁকে নোটিশ ধরিয়েছিলাম। সেটি পেয়ে তিনি আমাকে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করেন নোটিশটা কিসের। আমি নোটিশ সম্বন্ধে বিস্তারিত জানিয়ে চলে আসি। পরে শুনলাম তিনি মারা গিয়েছেন। ওই দম্পতি বরাবরই  মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। কোনও কারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ওই দম্পতি। এসআইআরে নাম নথিভুক্ত করার সময় নাসিফাজান তাঁর বাবার নাম লিঙ্ক করে নিজের নাম  নথিভুক্ত করেন। কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকার কারণে ফর্ম জমা দেওয়ার সময় কোনও লিঙ্ক দিতে না পারায় আলম শেখের বাড়িতে নোটিশ আসে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিশটি পাওয়ার পরই আলম শেখ  চিন্তায় পড়ে যান। শুধুই বলতে থাকেন আমাকে আর তাহলে এই গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না। এই বয়সে কোথায় যাব, কী করব? নাসিফাজান বলেন,  নোটিশ হাতে পাওয়ার পরই আর কিছু খেতে পারেননি। প্রবল মানসিক উদ্বেগের মধ্যে পড়ে যান। উদ্ভ্রান্তের মতো একবার ঘরের ভেতর,  পরক্ষণেই ঘরের বাইরে যাতায়াতের পরেই ঝিমোতে শুরু করেন। চিকিৎসকে খবর দিতে না দিতেই তিনি মারা যান বলে নাসিফাজানের অভিযোগ। ভগবন্তপুর-২ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শেখ ইসমাইল আলি  বলেন, এসআইআরের নোটিশই ওই বৃদ্ধের প্রাণ কেড়েছে। বিজেপি সরকার এবং তার এজেন্ট এই রাজ্যের কিছু মানুষকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করছে। তারই জ্বলন্ত উদাহরণ এই মৃত্যু। আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ