Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিগ্রি কলেজে ভর্তিতে অনীহায় উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল, সময় সীমা বাড়িয়েও লাভ হল না, ১০ দিনে আবেদন মাত্র ১৮৩৭টি

কলেজে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েও নামমাত্রা সাড়া মিলল।

ডিগ্রি কলেজে ভর্তিতে অনীহায় উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল, সময় সীমা বাড়িয়েও লাভ হল না, ১০ দিনে আবেদন মাত্র ১৮৩৭টি
  • ২৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কলেজে ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েও নামমাত্রা সাড়া মিলল। ২৫জুলাই কলেজে ভর্তির অনলাইন আবেদনের সময়সীমা শেষ হল। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৫২টি কলেজে ৭৪হাজার ৩৮১আসনে ভর্তির জন্য মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ২৮হাজার ২২১জন। অর্থাৎ, সকলে ভর্তি হলেও প্রায় ৪৬হাজার আসন ফাঁকা থাকবে। এরআগে দু’দফায় ভর্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। গত ১৮জুন থেকে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, ৭জুলাই পর্যন্ত আবেদনের পোর্টাল খোলা থাকবে। সেটা বাড়িয়ে ১৫জুলাই করা হয়েছিল। যদিও ওইদিন দেখা যায়, সারা রাজ্যে আবেদন সংখ্যা সীমিত। সেইসঙ্গে ভর্তি নিয়ে ওবিসি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় রাজ্য সরকার ফের ২৫জুলাই পর্যন্ত অনলাইন আবেদনের পোর্টাল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১০দিনে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ১৮৩৭আবেদনকারী পাওয়া গিয়েছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক অভিজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, মোট ৭৪হাজার ৩৮১ আসনে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৮হাজার ২২১জন।

Advertisement

এবছর পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট ৫৮হাজার ৪২১জন পড়ুয়া উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮হাজার ১৮৬জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৪হাজার ৮২৬জন, ঝাড়গ্রাম জেলায় ৫৪০৯জন রয়েছেন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এই তিন জেলায় মোট ৫৬টি কলেজ রয়েছে। তারমধ্যে তিনটি স্বশাসিত এবং একটি প্রাইভেট কলেজ রয়েছে। ওই চার কলেজ নিজেদের মতো ছাত্রভর্তি করিয়ে নিয়েছে। বাকি ৫২টি কলেজের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে তিন জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা ৫০শতাংশ পড়ুয়ার কাছ থেকে কলেজে ভর্তির আবেদন আসেনি। গত ১০দিনে তমলুক, নন্দকুমার, কোলাঘাট, ময়না, বাজকুল, কাঁথি প্রভৃতি কলেজে গড়ে ২০থেকে ৪০জন করে নতুন আবেদনকারী পাওয়া গিয়েছে। ভর্তির বেহাল ছবিটার আপাতত কোনও বদল হচ্ছে না। দু’দফায় অনলাইন পোর্টাল খোলার রাখার সময়সীমা বাড়িয়েও বিশেষ কোনও হেরফের হয়নি। 
ডিগ্রি কলেজে বর্তমান প্রজন্মের অনীহা দেখে উদ্বিগ্ন শিক্ষামহল। এই অবস্থায় গত ১৬জুলাই বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক কর প্রতিটি কলেজের অধ্যক্ষ এবং টিচার ইন-চার্জদের নিয়ে মিটিং করেছেন। এই সঙ্কট থেকে মুক্তির উপায় কী, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ইউনিভার্সিটিতে কর্মমুখী কোর্স চালু নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। উদাহরণ হিসেবে আর্ট অব অ্যারোমা থেরাপি(বিউটিশিয়ান), ফিশারি সায়েন্স, মোবাইল রিপেয়ারিং প্রভৃতির কথা উঠে এসেছে। যদিও এধরনের কর্মমুখী কোর্স চালু হলেও ছাত্র ভর্তি সঙ্কটের সমাধান হবে, এমনটা অনেকেই বিশ্বাস করেন না। কারণ, কাজের সুযোগ না থাকলে এধরনের কোর্স করেও বিশেষ লাভ নেই বলে শিক্ষক ও অধ্যাপকদের একাংশের মত।
গত তিন-চার বছর ধরে কলেজে বিপুল সংখ্যক আসন ফাঁকা থাকছে। মোট আসনের তুলনায় অর্ধেক পড়ুয়াও পাওয়া যাচ্ছে না। এরফলে ন্যাক টিমের মূল্যায়নের সময় কলেজ কর্তৃপক্ষকে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে। এবছর তমলুক সহ একাধিক কলেজের গ্রেড নেমে গিয়েছে। এধরনের সমস্যা দূর করতে আসনসংখ্যা ছাঁটাই করা হবে। গত তিন বছরে বিষয়ভিত্তিক ভর্তির গড় পরিসংখ্যানকে সূচক করে আসন সংখ্যা ছেঁটে ফেলা হবে। সেক্ষেত্রে বহু কলেজে অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যার মতো বিষয়ে অনার্স উঠে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ