নয়াদিল্লি: আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ১০ বছরে ৫২৯৭টি মামলা দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কিন্তু, জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে দোষীসাব্যস্তর হার মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। সংখ্যার হিসেবে আটজন। কোনও বিরোধী দল বা রাজনীতিবিদ নন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ‘ব্যর্থতা’ বেআব্রু করে দিয়েছে সংসদে পেশ করা সরকারের পরিসংখ্যানই। এবার তদন্ত প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ল ইডি। শীর্ষ আদালত ভর্ৎসনার সুরে জানিয়েছে, বিনা বিচারে অভিযুক্তকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হচ্ছে। এটা কার্যত সাজা দেওয়ার শামিল। আর তা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে তদন্তকারী সংস্থা। দোষী সাব্যস্ত না হলেও বছরে পর বছর অভিযুক্তকে জেলবন্দি রাখতে সফল হচ্ছে ইডি। এদিন জেএসডবলু স্টিলের ভূষণ পাওয়ার অ্যান্ড স্টিল লিমিটেডকে অধিগ্রহণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে। প্রধান বিচারপতি বি আর গভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে চলে সওয়াল-জবাব। সেখানেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রসঙ্গও ওঠে। তা শুনেই প্রধান বিচারপতি বলেন, এখানেও ইডি রয়েছে? এদিন এজেন্সির তরফে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, ইউটিউবে ইডির তদন্তের সময়সীমা নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চলছে। কিন্তু, প্রকৃত তথ্য হচ্ছে আর্থিক তছরূপ মামলায় নগদ ২৩ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। কিছু ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের বাড়িতে বিপুল অর্থ উদ্ধার হচ্ছে। সেগুলি গুনতে গুনতে আমাদের কাউন্টিং মেশিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আবার নতুন যন্ত্র আনতে হচ্ছে। সলিসিটর জেনারেলের এই যুক্তিকে তেমন কোনও গুরুত্বই দিতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোথায় কী প্রচার হচ্ছে, তা উপর ভিত্তি করে কোনও সিদ্ধান্ত হয় না। তিনি বলেন, আমি খবরের চ্যানেল দেখি না। সকালে ১০-১৫ মিনিট খবরের কাগজ পড়ি। এরপরই ইডির আইনজীবীর কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কেন্দ্রীয় এজেন্সির মামলায় দোষী সাব্যস্তর হার কত? তুষার মেহেতা বলেন, এই হার অত্যন্ত কম। তবে এর কারণ হিসেবে আইন ব্যবস্থার জটিলতার কথা উল্লেখ করেন সলিসিটর জেনারেল। পাল্টা কড়া ভাষায় প্রধান বিচারপতি বলেন, আর্থিক তছরূপ মামলায় অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত না হলেও ওই ব্যক্তিকে শুনানি ছাড়াই বছরের পর বছর জেলবন্দি করে রাখছেন। এটা আপনারা সফলভাবেই করছেন।



