Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে মনরেগার প্রশংসা, ‘জি রাম জি’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের

একই প্রকল্প। স্রেফ নাম বদলে আর রাজ্যের ঘাড়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে নতুন আইন ‘ভিবি-জি রাম জি’ এনেছে মোদি সরকার।

আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে মনরেগার প্রশংসা, ‘জি রাম জি’র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: একই প্রকল্প। স্রেফ নাম বদলে আর রাজ্যের ঘাড়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে নতুন আইন ‘ভিবি-জি রাম জি’ এনেছে মোদি সরকার। কিন্তু বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা বার্ষিক আর্থিক সমীক্ষায় পদে পদে প্রশংসা মহাত্মা গান্ধী নারেগা’রই। যে প্রকল্পের জেরে গ্রামে বেড়েছে অর্থনৈতিক  স্বাচ্ছল্য। গরিবের হাতে এসেছে টাকা। বিশেষত মহিলাদের। গত এক দশকে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৪৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৮.১ শতাংশ। তার পরেই বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে কেন নাম বদলে চমক দিয়ে নতুন আইন আনা হল? রাজ্যের ঘাড়ে যখন আর্থিক বোঝা চাপবে, তখন সংসদে বিল আনার আগে কেন রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি? বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল।

Advertisement

২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। দুই খণ্ডে ৯৭২ পাতার এই সমীক্ষা রিপোর্টে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে মনরেগার কথা বলা হয়েছে। রয়েছে গত ২০ বছর এই আইন রূপায়নে গ্রামীণ অর্থনীতির পট বদলের কথা। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রায় দু’দশক ধরে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ভারতের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসাবে কাজ করেছে।

২০০৫ সালে আইন প্রণয়নের পর থেকে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (মনরেগা) গ্রামীণ পরিবারগুলিকে মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছে। গ্রামীণ আয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মনরেগা প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আধারভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে। ইলেকট্রনিক মজুরি প্রদান, জিও-ট্যাগের ফলে কাজের তদারকিতেও উন্নতি ঘটেছে। তৈরি হয়েছে সম্পদ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গরিবদের আয় বৃদ্ধি হয়েছে। বছরের পর বছর প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তিগত একাধিক সংস্কারের ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী হয়েছে। আর এই সাফল্যের সালতামামি দেখেই নতুন বিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষদস্তিদার। ঘটনাচক্রে তিনি আবার সংসদে গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সদস্যও। তাই তাঁর প্রশ্ন, ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও যেখানে মনরেগার প্রশংসা, সেখানে কেন স্রেফ নাম বদলের জন্য নতুন আইন? এই প্রকল্পে বলা হচ্ছে আর্থিকভাবে গ্রামীণ ভারত স্বচ্ছল হয়েছে। কিন্তু তার পরেও কেন পশ্চিমবঙ্গের টাকা আটকে রেখেছে মোদি সরকার?’ বারাসতের সাংসদ আরও বলেন, ‘বাংলায় মনরেগার কাজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল কেন্দ্র। তার জবাবে রাজ্য সরকার ৬৪টা অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দিয়েছে। যার কোনোটিতেই কলম চালাতে পারেনি গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক। তাহলে কেন টাকা আটকে?’ তৃণমূলের অপর সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনই তো বাংলার নানা প্রকল্পে টাকা আটকে রেখেছেন। মনরেগা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন...। আসলে বিজেপি বাংলা বিরোধী। তাই আসন্ন বাজেটেও নির্মলা সীতারামনের থেকে কোনো প্রত্যাশা নেই।’ একই সুরে কংগ্রেসের লোকসভার সচেতক মানিক্কম টেগরের মন্তব্য, ‘এই জন্যই তো কংগ্রেস লাগাতার মনরেগা বাঁচাও আন্দোলন করছে। নতুন আইন প্রত্যাহার করিয়েই ছাড়ব, সরকারকে চ্যালেঞ্জ।’

এদিকে, জি রাম জি আইনের বিরোধিতায় আজ ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুদিনে প্রতিবাদ পদযাত্রা করবে কংগ্রেস। দলের দপ্তর আকবর রোড থেকে গান্ধী স্মৃতি মার্গ পর্যন্ত হবে ওই মনরেগা বাঁচাও যাত্রা।

সম্পর্কিত সংবাদ