সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও:
সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, মারগাও:
ইস্ট বেঙ্গল-৩ : পাঞ্জাব এফসি-১
(রশিদ, সিবলে, সাউল)(ড্যানিয়াল-পেনাল্টি)
সাউল ক্রেসপো কতটা ফিট? খেলতে পারবে? সুপার কাপ সেমি-ফাইনালের আগে ইস্ট বেঙ্গলের স্প্যানিশ মিডিওকে নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছিল পাঞ্জাব। তাদের কোচ পানাজিওটিস ডিলম্পেরিস ধূর্ত ট্যাকটিশিয়ান। জানেন, সাউলই ইস্ট বেঙ্গলের ক্রাইসিস ম্যান। বৃহস্পতিবার গোয়ার ফাতোরদায় মোক্ষম সময়ে জ্বলে উঠলেন স্প্যানিশ মিডিও। পাঞ্জাবকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সুপার কাপ ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্ট বেঙ্গল। ওড়িশার পর গোয়াতেও ট্রফি জয়ের সুযোগ। তবে মেজাজ হারিয়ে অহেতুক লাল কার্ড দেখায় ফাইনালে ডাগ-আউটে নেই কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। দু’টি হলুদ কার্ড দেখার পর তাঁকে মার্চিং অর্ডার দেওয়া হয়। তাই ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের রাস্তাও বন্ধ। অযথা মাথা গরম করে কোচের কার্ড দেখা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ফাইনালে তাঁর ডাগ-আউটে না থাকাটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
ম্যাচের আগের দিন দল নিয়ে লুকোচুরি খেলেছিল পাঞ্জাব। পরিকল্পনা করেই মাঠে নামে তারা। রশিদ-সাউল-মিগুয়েলের ত্রিভুজ দলের নিউক্লিয়াস। তাদের রুখতে টাফ ফুটবলের টোটকা প্রয়োগ করেন পাঞ্জাব কোচ। প্লে-মেকার মিগুয়েলকে কড়া নজরে রাখছিলেন নিখিল প্রভু। তবে পানাজিওটিসের জাল কেটে রশিদরা বেরতেই চেনা মেজাজে অস্কার ব্রিগেড। রশিদ ও সাউল স্কোরশিটে নাম তুলেছেন। তিনটি গোলেই মিগুয়েলের অবদান। এদিন ১২ মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ইস্ট বেঙ্গল। মিগুয়েলের কর্নার প্রতিপক্ষ রক্ষণে প্রতিহত হয়ে ছিটকে যায় রশিদের পায়ে। শিকারি বিড়ালের মতো ওত পেতে ছিলেন প্যালেস্তাইন মিডিও। ডান পায়ের গ্রাস কাটিং শটে জাল কাঁপান তিনি (১-০)। কিন্তু এরপরেই ম্যাচ থেকে হারিয়ে গেল ইস্ট বেঙ্গল। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় পাঞ্জাব। বাঁদিক থেকে পরমবীরের বাড়ানো ক্রসে রিকির হেড বিপিনের হাতে লাগে। রেফারি অশ্বিন স্পটকিকের নির্দেশ দিলে লক্ষ্যভেদে ভুল হয়নি ড্যানিয়েলের (১-১)। এরপর ম্যাচ নাটকীয়তায় ভরপুর। রেফারির একাধিক সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে হলুদ কার্ড দেখেন ইস্ট বেঙ্গল কোচ। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে কর্নার থেকে মিগুয়েলের ক্রসে কেভিন সিবলে হেডে গোল করতেই (২-১) চতুর্থ রেফারির দিকে ছুটে যান অস্কার। হাত ঝাঁকানোর পর ডাগ-আউটে ঘুসি মারেন। তখনই তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। বাকি সময় গ্যালারিতে বসেও কাটাতে হল তাঁকে।
পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্ডার পরমবীরকে তুলে তরুণ প্রতিভা সুহেলকে মাঠে নামাতে পাঞ্জাবের আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ে। এই পর্বে একাধিক সুযোগও এসেছিল। কিন্তু আনোয়ার-সিবলের কম্বিনেশন ভাঙতে পারেনি পানাজিওটিস-ব্রিগেড। উল্টে ৭১ মিনিটে পাঞ্জাব এফসি’র কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল মশাল বাহিনী। ডান দিকে মিগুয়েলের ছোট্ট পাস সাজিয়ে দেন সাউলের উদ্দেশ্যে। ফেভারিট ডান পায়ে নয়, টপ বক্স থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান তিনি (৩-১)। এরপরেই জারিজুরি শেষ পাঞ্জাবের। তবে সুখের দিনেও হিরোশিকে নিয়ে অস্বস্তি থাকছে। জাপানি স্ট্রাইকার র্যান্টি, ডুডুদের ধারেকাছে আসবেন না। এমন চললে গোলের সামনে মাথা খুঁড়ে মরতে হবে। প্রতিদিন তো সাউলরা জেতাবেন না।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, সিবলে, লালচুংনুঙ্গা (জয়), রশিদ, সাউল, মিগুয়েল (ডেভিড), মহেশ (এডমুন্ড), বিপিন, হিরোশি।