রোজারিও: বাবার মৃত্যু শোকে এখনও বিহ্বল লিও মেসি। গত শনিবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন লায়োনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টা। তবে বাবা নেই, তা মেনে নিতে পারছেন না আর্জেন্তাইন মহাতারকা। ইতিমধ্যেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ফুটবল থেকে বিশ্রাম নিয়েছেন বাঁ পায়ের জাদুকর। তবে আর কতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে মেসি নিজেও সংশয়ে রয়েছেন। আসলে তাঁর ফুটবল জীবনের পুরোটাই জুড়ে ছিলেন বাবা জর্জ। তিনি শুধু এজেন্ট নন, ছিলেন বন্ধু ও মেন্টর। তাই আর কখনো বাবাকে স্ট্যান্ডে দেখতে না পাওয়ার শূন্যতা পূরণ হবে না জেনে মেসিও এবার চিরতরে ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন।
বাবার মৃত্যুর পর বুধবার প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খোলেন লিও। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্ট করেন তিনি। বাবার সঙ্গে ছবির পাশাপাশি দু’পাতার চিঠির পরতে পরতে ছিল স্বজন হারানোর বেদনা। মেসি লেখেন, ‘বাবা, এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে তুমি নেই। কী করে মনকে বোঝাব যে, আমাদের আর কোনোদিন কথা হবে না। জানি তুমি খুবই কষ্ট পাচ্ছিলে। হয়তো তোমার চলে যাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো ছিল। তবে এই মুহূর্তটা এত তাড়াতাড়ি না-ও আসতে পারত। এখনও কত কিছু তোমাকে বলা বাকি। তুমি সবসময় আমাকে আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার জন্য জোর দিয়েছিলে। মনে আছে বিশ্বকাপ চলাকালীন মা বারবার বলত, তুমি ভালো আছ। তবে বাস্তব সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল ছিলাম। কারণ, তেমনটা না হলে তুমি আমায় ম্যাচের পর নিশ্চয়ই মেসেজ করতে। তবে আমি চেয়েছিলাম টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত যেতে। যাতে তুমি ফাইনালে আসতে পারো। কিন্তু তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হয়নি। আমরা ফাইনালে ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু তাতেও দেশবাসীর ভালোবাসায় কোনো খামতি ছিল না।’ এরপরই নিজের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মেসির মন্তব্য, ‘তুমি ছাড়া আমি কী করব জানি না। কীভাবে এগব বুঝতে পারছি না। আর বেশি দিন খেলা চালিয়ে যাব কি না তা বুঝতে পারছি না। শুরু থেকেই তুমি আমার পাশে ছিলে। আর কিছুটা সময় অপেক্ষা করলে আমরা একসঙ্গে শেষ করতে পারতাম।’
মেসির কঠিন সময়ে তাঁকে সমবেদনা জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। আর্জেন্তাইন মহাতারকার পোস্টে কমেন্ট করেন সিআরসেভেন। তিনি লেখেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার ও পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা। লিও, তোমাকে দীপ্ত আলিঙ্গনের মাধ্যমে সমর্থন জোগাতে চাই।’ মেসির বাবার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ নেইমারও। তিনি লেখেন, ‘এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে উপরওয়ালা তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে শক্তি দিক। ভালোবাসা নিও।’