নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুবভারতীর ভিআইপি গেটের বাইরে থিকথিকে ভিড়। লাল-হলুদ পতাকা গায়ে জড়িয়ে তুমুল বৃষ্টিতেও উদ্দাম সেলিব্রেশন। ড্রেসিং-রুমের বাইরে কর্তাদের চোখ চকচকে। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরছেন। আবেগে কাঁপছেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। বললেন, ‘ভারতীয় ফুটবলাররাও পারে। বিপক্ষে ছয় বিদেশি। তবু হিম্মত নিয়ে লড়েছে ছেলেরা। এই জয় গোটা দেশকে গর্বিত করল।’ সত্যিই পিছিয়ে থাকা ভারতীয় ফুটবলে ইস্ট বেঙ্গল যেন কালো মেঘে সোনালি রেখা। রিষড়ার বাড়িতে বসেই ম্যাচ দেখেছেন শিশির ঘোষ। এএফসি কাপ উইনার্স কাপের সেই জাওরা ম্যাচে জাল কাঁপিয়েছিলেন প্রাক্তন স্ট্রাইকার। মুঠোফোনে বললেন, ‘সত্যিই অসাধারণ। এই লড়াই ভোলার নয়। ইস্ট বেঙ্গল আজও কাঁপে না, কাঁপায়।’
ডার্বি হেরে মরশুম শুরু করেছিলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ফলে এশিয়ান মঞ্চে লড়াইয়ের আগে মোটেও স্বস্তিতে ছিলেন না স্প্যানিশ গুরু। প্রি-সিজনের মধ্যেই ম্যাচ। দল পুরো তৈরি নয়। বিশেষ করে রক্ষণ ও আপফ্রন্টে সমস্যা রয়েইছে। সিংহভাগ ভারতীয় ফুটবলার। অল ইন্ডিয়ান ডিফেন্স। তাতেই বাজিমাত। তার উপর আল আরবি’র বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছিল দল। কিন্তু নাছোড় মনোভাবই হাবাসের স্পিরিট। অল্প কয়েকদিনেই আনোয়ার, জিকসনদের শিরায় শিরায় তা প্রবাহিত। লাল-হলুদের কোচিং গুরু বাড়তি উচ্ছ্বসিত নন। বরং একেবারে শান্ত। তিনি জানেন, সামনে কঠিন লড়াই। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে হাবাসের মন্তব্য, ‘সব কৃতিত্ব ফুটবলারদের। তারা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। ভারী মাঠে ১২০ মিনিট খেলা মোটেও সহজ নয়।’ একটু দম নিয়ে অভিজ্ঞ কোচের সংযোজন, ‘সামনে প্রচুর ম্যাচ। ফুটবলারদের ফিটনেস ধরে রাখাই আসল। এই জয় সমর্থকদের উৎসর্গ করছি।’ মুচকি হেসে স্টেডিয়াম ছাড়লেন স্প্যানিশ বস।
আনোয়ার, জিকসনরাও উদ্দীপ্ত। ডুরান্ড কাপের নক-আউটে এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে তৈরি তাঁরা। ডিফেন্সিভ ব্লকারের ভূমিকায় জিকসন নিজেকেও ছাপিয়ে গেলেন। আলাদা করে বলতেই হয় রশিদের কথা। আইএসএলের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে মোক্ষম সময়ে জাল কাঁপিয়েছিলেন প্যালেস্তাইনের ফুটবলার। এদিনের গোল ছাপিয়ে গেল সবকিছুই। দুরন্ত ভলি জালে আছড়ে পড়ার সময় নড়ার সুযোগ পাননি গোলকিপার। রশিদ বললেন, ‘সমর্থকরা হাসি মুখে বাড়ি ফিরছেন। আমি সবচেয়ে খুশি।’ মাঠ ছাড়ার সময় লাজুক মুখে ডেভিডের মন্তব্য, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। এই গোল আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’ অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আগুন জ্বাললেন এই তরুণতুর্কি। অস্কার ব্রুজোঁর আমলে বেচারা ম্যাচ টাইমই পাননি। কিন্তু এই ডেভিড যে কাঁচ কাটা হিরে! হাবাস নিশ্চয়ই অস্কারের ভুল করবেন না।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, হার্দিক, আনোয়ার, সন্দীপ, জয়, রশিদ (রোহিত), জিকসন, এডমুন্ড (ডেভিড), বিপিন (দানু), রামিরেজ (বিষ্ণু) ও জেসিন (ক্রিস)।