শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মাত্র ১০ মিনিটেই ডেলিভারি! বিভিন্ন ই-কমার্স এবং ফুড ডেলিভারি অ্যাপ পরিষেবার এই চমকে এবার রাশ টানতে চাইছে পুলিশ। প্রতিযোগিতার ইদুঁর দৌড়ে নিজেদের এক নম্বরে রাখতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ক্রেতা বা গ্রাহক টানতে মরিয়া ই-কমার্স সাইট ও ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলি। তাই লাগামছাড়া গতিতে বাইক ছোটাচ্ছেন ই-কমার্স ও ফুড অ্যাপের ডেলিভারি বয়রা। তা করতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন তাঁরা। মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। পুলিশের হাতে থাকা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে একশোর বেশি ডেলিভারি বয় ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলায়। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। তাই দুর্ঘটনা আটকাতে ই-কমার্স সাইট ও ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলির সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টির উপর এবার পদক্ষেপ করছে রাজ্য পুলিশ।
নবান্ন সূত্রের দাবি, এই পদক্ষেপের প্রথম ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থার কর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে, সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কোনও ডেলিভারি করা যাবে না। দেওয়া যাবে না এ সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞাপনও। পুলিশের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হবে, দুই বা তিন কিলোমিটার দূরত্ব যেতে সাধারণভাবে গাড়ি চালালে যে সময় লাগে, সেই সময় ডেলিভারি বয়দের দিতে হবে। কোনও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যাবে না। চাপ দেওয়া বা অতিরিক্ত ‘ইনসেনটিভ’-এর প্রলোভন দেখানো যাবে না ডেলিভারি বয়দের। পুলিশের নির্দেশের পরও যদি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ডেলিভারির জন্য, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে চাইছে পুলিশ। সূত্রের দাবি, কেউ নির্দেশ না মানলে প্রথমে নোটিশ পাঠানো হবে। তারপরেও একই ঘটনা চলতে থাকলে করা হবে আইনি পদক্ষেপ। তারপরও কাজ না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডেলিভারি পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ক্ষেত্রে আইনি পথে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। এছাড়া, প্রতিটি ই-কমার্স সাইট ও ফুড ডেলিভারি অ্যাপকে এলাকা ভিত্তিক নির্দিষ্ট একটি ‘পিক-আপ পয়েন্ট’ রাখতে হবে। সেখান থেকে ডেলিভারি বয়রা সামগ্রী সংগ্রহ করবেন। ওই জায়গাগুলির তালিকা জমা দিতে হবে পুলিশকে।
এ বিষয়ে সতর্ক করে দিতে শীঘ্রই প্রায় ৭৫টি ই-কমার্স এবং ফুড ডেলিভারি অ্যাপ সংস্থাকে নিয়ে বৈঠক ডাকতে চলেছে রাজ্য পুলিশ। পরিবহণ দপ্তরও সেই বৈঠকে হাজির থাকবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, তাদের নজরে এসেছে, ডেলিভারি বয়রা যে বাইক ব্যবহার করছেন, তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনেক ক্ষেত্রেই থাকছে না। অনেকে আবার অপরাধেও জড়িয়ে পড়েছেন। সেই কারণে পুলিশকর্তারা চাইছেন, রাজ্যে কত জন এই ধরনের ডেলিভারি বয় আছেন, তার একটি ডেটা বেস তৈরি রাখতে। যেখানে তাঁদের নাম মোবাইল নম্বর, বাইকের তথ্য সহ সমস্ত তথ্য থাকবে। দুর্ঘটনা ছাড়াও সেই বাইক নিয়ে কোনও অপরাধ সংগঠিত হলে তদন্তের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে পুলিশের।