Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লুক্সেমবার্গের দুর্গার নিরঞ্জন গঙ্গায়

স্যুর বা পেত্রুস হতে পারে বড় নদী। কিন্তু তা কি গঙ্গার মতো পুণ্যসলিলা। তা নয় বলেই বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লুক্সেমবার্গ থেকে দুর্গা সোজা চলে আসেন উলুবেড়িয়ায়।

লুক্সেমবার্গের দুর্গার নিরঞ্জন গঙ্গায়
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: স্যুর বা পেত্রুস হতে পারে বড় নদী। কিন্তু তা কি গঙ্গার মতো পুণ্যসলিলা। তা নয় বলেই বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ লুক্সেমবার্গ থেকে দুর্গা সোজা চলে আসেন উলুবেড়িয়ায়। তারপর গঙ্গায় হয় তাঁর বিসর্জন। এবছরও তাই হচ্ছে। পুজো শেষে হাওয়া জাহাজে চেপে আকাশপথে ফিরবেন উমা। ততক্ষণে নীলকণ্ঠ পাখি কৈলাশে গিয়ে উমার ফেরার খবর দিয়ে দিয়েছেন। এয়ারপোর্টে নেমে সোজা উলুবেড়িয়া। তারপর মা গঙ্গার বুকে ঝাঁপ। অধিকারীদের পুজো এই নিয়মেই হবে। তার ব্যত্যয় হওয়ার নয়।  

Advertisement

গোটা বাংলা পুজোয় গা ভাসিয়েছে। পিছিয়ে নেই বাংলার বাইরে থাকা প্রবাসীরাও। বিদেশের বহু জায়গায় বাঙালিরা একত্র হয়ে দুর্গাপুজো করেন। কাগজ খুললেই এ খবর রোজই চোখে পড়ে। এ তালিকায় রয়েছে পশ্চিম ইউরোপের লুক্সেমবার্গও। সেখানে অধিকারী পরিবার গত চারবছর ধরে দুর্গাপুজো করছে। পরিবার, পরিজন, বন্ধুবান্ধব এবং বিদেশি প্রতিবেশীরাও পুজোয় অংশ নেয়। সেসব ঘিরে এ সময় উৎসবের চেহারা লুক্সেমবার্গে। মূলত সেখানে বসবাস করা ভারতীয়দের জন্য পুজোর আবহ তৈরি করা এবং স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে মিলেমিশে দুর্গাপুজোর আনন্দ ভাগ কতে নিতে এই পুজোর আয়োজন করেছিলেন ধৃতি অধিকারী এবং নীলাঞ্জনা অধিকারী। 
তাঁদের পুজো হয় দস্তুরমতো নিয়মরীতি মেনে। পূজারি যান বাংলা থেকে। অন্যান্য বছরের মত এ বছরও ভারত থেকে গিয়েছে প্রতিমা। পুজোর সামগ্রী নিয়ে বিমানে লুক্সেমবার্গ পৌঁছেছেন পুজারি শুভাশীষ বন্দোপাধ্যায। সেখানে নিয়ম মেনে পুজো করবেন দুর্গার। তারপর ফিরবেন ভারতে। পুজো সমাপনে সঙ্গে নিয়ে আসবেন মাটির প্রতিমাটি। সে দেশে স্যুর বা পেত্রুসের মতো অনেকগুলি নদী থাকলেও তার বরফগলা জলে দুর্গার বিসর্জন হবে না। তাই শুভাশীষবাবু  উলুবেড়িয়ায় ফিরে গঙ্গাতেই ভাসিয়ে দেবেন মূর্তি। গঙ্গার জলেই হবে লুক্সেমবার্গের প্রতিমার বিসর্জন। শুভাশীষবাবু বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে প্রবাসী বাঙালিদের জন্য পুজো করতে যাওয়া একটা অন্য অনূভূতি। প্রতিমা সেখানে ভাসান দেওয়ার নিয়ম নেই। দুর্গাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিধিমতে গঙ্গাতেই দিতে হবে বিসর্জন।’ 
লুক্সেমবার্গে পুজোর আয়োজন থেকে থেকে আরতি, ভোগ বিতরণ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবকিছুই হয়। বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলাও হয়। সবকিছুর আয়োজন করেন অধিকারী দম্পতি এবং তাঁদের বন্ধুবান্ধবরা।  এ সময় পাশের দেশ ফ্রান্স, বেলজিয়াম থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী আসেন ঠাকুর দেখতে, প্রসাদ খেতে, আনন্দ করতে। অধিকারী দম্পতি জানান, লুক্সেবার্গের এই পুজো ঘিরে এই অনন্য মিলনক্ষেত্র তৈরি হয়। পুজোর জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ