সংবাদদাতা, মানিকচক: মাঝে মধ্যেই প্রবল বৃষ্টি। তার জেরে ভূতনির নবনির্মিত রিং বাঁধের নীচ দিয়ে গঙ্গায় ঢুকছে জল। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, গঙ্গা ফুঁসে উঠলে তখন কীভাবে এই বাঁধ জল আটকাবে। এই পরিস্থিতিতে বাঁধের কাজের মান নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, যে বাঁধ বৃষ্টির জলই রুখতে পারে না, সেটি গঙ্গার জল ঠেকাবে কীভাবে? রবিবারই এলাকা পরিদর্শন করেছেন মানিকচকের বিডিও এবং সেচদপ্তরের আধিকারিক। এদিকে রতুয়ার পশ্চিম রতনপুরে বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন স্থানীয়রা।
মানিকচক ব্লকের ভূতনির কেশরপুর কালুটোনটোলায় কয়েক বছর ধরে চলছে গঙ্গা ভাঙন। গতবছর এলাকার অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতি। সেই পরিস্থিতি ফের যাতে না হয়, সেজন্য সেচদপ্তর কেশরপুরে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার নতুন রিং বাঁধ নির্মাণ করে। প্রায় ছ’কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয় কাজ। বাঁধটি মাটি, বালির বস্তা এবং বোল্ডারের তৈরি। কাজটি প্রায় শেষের দিকে। তার মধ্যেই চলছে লাগাতার বৃষ্টি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। একটানা বৃষ্টির ফলে রিং বাঁধের ধারে জমে থাকা বৃষ্টির জল নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে গঙ্গার দিকে। যা দেখে আতঙ্কিত স্থানীয়রা।
এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহির বলেন,আমরা প্রথম থেকেই বলেছি, বাঁধে বালির জায়গায় মাটি ব্যবহার করতে। কিন্তু কেউ শোনেননি। আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের পুলিসের ভয় দেখানো হয়। এখন বাঁধে বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। বাঁধের তলা দিয়ে বৃষ্টির জল যাচ্ছে। যে বাঁধ বৃষ্টির জল থামাতে পারে না, কীভাবে গঙ্গার জলস্রোত রুখবে। আবার বন্যা পরিস্থিতি হবে ভূতনিতে।
অপরদিকে, প্রতিনিয়ত গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় এলাকা পরিদর্শনে যান মানিকচকের বিডিও অনুপ চক্রবর্তী। বলেন, বাঁধের বিষয়টি সেচদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নদীর জল বাড়ছে। এখনও নদীর ধারে অসংরক্ষিত এলাকায় অনেক পরিবার রয়েছে। তাদের সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে আসা এবং থাকার ব্যবস্থার জন্যই এদিন পরিদর্শন।
এলাকা পরিদর্শনে যান মালদহ জেলা সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। বলেন, বৃষ্টির কারণে বেশকিছু জায়গায় রেনকার্ট হয়েছে। সেগুলি ঠিক করা হয়েছে।
বাঁধে স্থানীয় মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, বালি নয়। দু’একটি জায়গায় তলা দিয়ে বৃষ্টির জল যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভয়ের ব্যাপার নেই।
এদিকে, রতুয়া-১ ব্লকের পশ্চিম রতনপুরে অব্যাহত কোশি নদীর তাণ্ডব। প্রায় তিনশো মিটার এলাকা নদীগর্ভে তলিয়েছে। দু’শো বাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয়রা। বালির বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে। তা সত্ত্বেও অব্যাহত ভাঙন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রামলাল চৌধুরী বলেন, প্রশাসন সঠিক সময়ে ভাঙন বোধের কাজ না করার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের। সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি সহ ভিটে হারাচ্ছেন। মানুষ সময় মতো যোগ্য জবাব দেবে। নিজস্ব চিত্র