Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রোমোটিং, ব্যবসার আড়ালে মাদক পাচার! কলকাতা থেকে অবশেষে পুলিশের জালে এনারুল

সাধারণ মাছ ব্যবসায়ী থেকে হঠাৎ ফুলেফেঁপে উঠেছিল সম্পত্তি। এরপর শুরু প্রোমোটারি, জমি-বাড়ির ব্যবসা। এসবের আড়ালেই চলছিল আন্তঃরাজ্য মাদক কারবার।

প্রোমোটিং, ব্যবসার আড়ালে মাদক পাচার! কলকাতা থেকে অবশেষে পুলিশের জালে এনারুল
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: সাধারণ মাছ ব্যবসায়ী থেকে হঠাৎ ফুলেফেঁপে উঠেছিল সম্পত্তি। এরপর শুরু প্রোমোটারি, জমি-বাড়ির ব্যবসা। এসবের আড়ালেই চলছিল আন্তঃরাজ্য মাদক কারবার। কালো টাকা সাদা করতেই একের পর এক ব্যবসা শুরু করে কালিয়াচকের মোজামপুরের বালুগ্রামের বাসিন্দা এনারুল হক ওরফে এনারুল শেখ। সোমবার এনারুল ও তার কাকা সওকত সেখ ওরফে ভগলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় এন্টালি থানা এলাকার একটি আবাসন থেকে তাদের ধরে মালদহ পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতদের মালদহ আদালতে পেশ করে আটদিনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মাদক কারবার রুখতে মালদহ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি আগেই স্পষ্ট করেছেন পুলিশ সুপার অভিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি লাগাতার অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার ব্রাউন সুগার সহ একাধিক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি সূত্র মারফৎ তথ্য সংগ্রহ করে মালদহ পুলিশের একটি দল কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল। 
মঙ্গলবার মালদহের পুলিশ সুপার জানান, রাজ্যের মাদক চক্রের মাথা এনারুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাঁচামাল এনে কালিয়াচকে ব্রাউন সুগার তৈরি ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক কারবার চালাত সে। বিহার, ঝাড়খণ্ডেও তার চক্র সক্রিয় ছিল। মাদক কারবার চালিয়ে বিপুল আয় করেছে সে।  
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর,  প্রায় ১৫ বছর মাছের ব্যবসা করত এনারুল সেখ। সেই ব্যবসার আড়ালে বেআইনি পোস্ত চাষ করতে শুরু করে।  আবগারি, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মালদহে পোস্ত চাষ নির্মূল হলে কৌশল বদলায় এনারুল। উত্তর-পূর্ব ভারত, মুলত মণিপুর থেকে কাঁচামাল এনে কালিয়াচকের বেশকিছু গোপন ডেরায় ব্রাউন সুগার তৈরি করত। যা পরে মাদক চক্রের হাবে পরিণত হয়। সেই সঙ্গে সে একটি গ্যাংও চালাত। এনারুল ও তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ রয়েছে। 
কালিয়াচকের কিছু যুবককে কাঁচামাল থেকে ব্রাউন সুগার তৈরির প্রশিক্ষণ দেয় এনারুল। তার তৈরি ব্রাউন সুগার বিভিন্ন প্যাডলারের মাধ্যমে সারা দেশে পাঠানো হতো। এভাবেই ঠিকাদারি, প্রোমোটারির আড়ালে থাকা এনারুল ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে ব্রাউন সুগার চক্রের কিংপিন। লোকের চোখে ধুলো দিতে মাদক কারবারের কালো টাকা দিয়ে সে প্রোমোটিং, জমি বাড়ির ব্যবসা করত। 
এনারুলের গ্রেপ্তারি রাজ্যে মাদক বিরোধী অভিযানে অন্যতম বড় সাফল্য বলে মনে করছে পুলিশ। তার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না বলে এদিন পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ