Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তেহট্টে পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই মাদক কারবারিরা রণকৌশল পাল্টাচ্ছে

পুলিশ ও শুল্ক দপ্তর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের হাতে ধরাও পড়ছে বহু কারবারি।

তেহট্টে পুলিশের চোখে ধুলো দিতেই মাদক কারবারিরা রণকৌশল পাল্টাচ্ছে
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: পুলিশ ও শুল্ক দপ্তর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের হাতে ধরাও পড়ছে বহু কারবারি। তাই পুলিশের চোখে ধুলো দিতে তারা এবার রণকৌশল পাল্টাচ্ছে। কখনও কলেজ পড়ুয়া, আবার কখনও যুবক, কিংবা শিক্ষকদের মাদক পাচার ও তৈরিতে কাজে লাগাচ্ছে। অল্প টাকার বিনিময়ে তারা এই কাজ করাচ্ছে। কলেজ পড়ুয়া ও যুবকরা অল্প সময়ে বেশকিছু টাকা পাওয়ার লোভে এই কাজ করে যাচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাশীপাড়া এলাকার বড় নলদহ, কুলগাছি, পলশণ্ডা সহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে। মাসকয়েক আগে শুল্ক দপ্তরের আধিকারিকরা বড় নলদহে তল্লাশি অভিযানে এসে আক্রান্ত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের মাদক সহ এক কলেজ পড়ুয়া গ্রেফতার হয়। বড় নলদহ থেকে হেরোইন তৈরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে ২১ ও ২৩ বছরের দুই যুবক। এই ঘটনার বেশ কিছুদিন আগেও পুলিশের হাতে মাদক সহ এক যুবক ধরা পড়েছিল। তার আগে তেহট্ট থানার বেতাই এলাকায় অবৈধ কাশির সিরাপ সহ দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তার মধ্যে একজন নাবালক ও অন্যজন সদ্য আঠারো পার হওয়া যুবক রয়েছে। এমনকি, বড় নলদহ এলাকায় এক শিক্ষক হেরোইন সহ গ্রেফতার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন মাদক কারবারিরা অনেক বেশি সতর্ক হয়েছে। পুলিশি র‌্যাডার থেকে বাঁচতে তারা যুবক, কলেজ পড়ুয়া, শিক্ষক, এমনকি নাবালকদেরও কাজে লাগাচ্ছে। ধৃত কলেজ পড়ুয়া ও যুবকদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, ৫০০-৭০০টাকায় এই মাদক কোনও একজনকে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। আরও জানা যায়, তাদের মতো যুবক ও কলেজ ছাত্রদের দিয়ে এই মাদক নির্দিষ্ট জায়গায় সহজে পৌঁছে যায়। পুলিশ তাদের কোনও সন্দেহ করে না। ফলে সহজেই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে মাদক পৌঁছে যাবে। সেইসঙ্গে খরচও কম হবে। মাদক পাচার করতে ‘ক্যারিয়ার’রা অনেক বেশি টাকা নেয়। অথচ অনেক কম টাকায় কলেজ পড়ুয়া ও যুবকদের দিয়ে সেই কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। অল্প সময়ে হাতে টাকা পেয়ে যাওয়ায় তারাও এই কাজ করতে রাজি হয়ে যায়।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকার বলেন, আমরা জানি নিয়মিত তল্লাশির জেরে মাদক কারবারিরা তাদের ‘ক্যারিয়ার’ পাল্টেছে। এখন কলেজ পড়ুয়া ও যুবকদের কাজে লাগাতে শুরু করেছে কারবারিরা। তবে, আমরা সজাগ আছি। সন্দেহজনক কিছু দেখলেই আমরা সতর্ক হয় যাব। আমরা মাদকের বিষয়ে কাউকে রেয়াত করব না। সে শিক্ষক হোক বা নাবালক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ