নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সাম্প্রতিক অতীতের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে স্বমহিমায় ফিরল দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেড (ডিপিএল)। রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা এই বিদ্যুৎ কারখানা নিয়ে কটাক্ষ শোনা যায় বিরোধীদের মুখে। সেই কারখানার পারফরমেন্স পাল্টে গেল চলতি অর্থবর্ষে। ডিপিএল কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবার শেষ হওয়া অর্থবর্ষে তারা গড়ে ৮০.৬৮ শতাংশ হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পেরেছে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার আশি শতাংশের বেশি তাঁরা উৎপাদন করেছে। আগের অর্থবর্ষে যা ছিল মাত্র ৪৯.১৬ শতাংশ। পাশাপাশি কারখানার নিজস্ব কয়লা খনির সমস্যাও কাটিয়ে উঠেছে। তাই কয়লার জোগান স্বাভাবিক। এই অবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে ডিপিএলকে ঘিরে। জানা গিয়েছে, নতুন ইউনিট গড়ার তোড়জোড় শীর্ষস্তরে শুরু হয়েছে। ডিপিএলের পরিত্যক্ত জমিতেই হবে নতুন কারখানা। তাই নিয়ে ফের আশার আলো দেখছেন দুর্গাপুরের মানুষ।
ডিপিএলের জনসংযোগ আধিকারিক স্বাগতা মিত্র বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ জুড়ে রাজ্য সরকারের সাহায্যে শ্রমিকদের প্রচেষ্টায় অত্যন্ত ভালো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আগের সব রকম সমস্যাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। কয়লার জোগান স্বাভাবিক রয়েছে।
১৯৬১ সালে পথচলা শুরু করে ডিপিএল। একাধিক ইউনিট নিয়ে এই কারখানা যাত্রা শুরু করেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো ইউনিটগুলি বন্ধ হয়ে নতুন ইউনিট চালু হয়েছে। বর্তমানে দু’টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। সাত নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট, যা শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ সালে উৎপাদন শুরু হয় ৮ নম্বর ইউনিটটিতে। সেখানের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ২৫০ মেগাওয়াট। সাড়ে পাঁচশো মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও এতদিন নানা সমস্যায় তার নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তাই বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল রাজ্য সরকারের অধীন এই সংস্থা। তাদের হাতে থাকা বাঁকুড়া জেলার কয়লা খনিতে উৎপাদন ও পরিবহণ নিয়েও নানা টালবাহানা ছিল। অবশেষে সেই খারাপ সময় কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। পাশাপাশি ডিপিএলের অন্দরে কান পাতলেই নতুন ইউনিট গড়ার তোড়জোড় অনুভব করা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, জিন্দালদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাজ্য সরকার নতুন ইউনিটটি গড়ে তুলবে। তা নিয়ে সর্বোচ্চ স্তরে আলোচনা চলছে। আইএনটিটিইউসির ব্লক সভাপতি কল্লোল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্র সরকার যেখানে একের পর এক কারখানা বন্ধ করছে। পুরনো কারখানাগুলি খোলার উদ্যোগ নেই, সেখানে আমাদের সরকার রুগ্ন সংস্থাগুলিকে সাহায্য করে আগের অবস্থায় নিয়ে আসছে।
যদিও বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, এটাও কলকাতাকে লন্ডন বানানোর মতোই ভুয়ো প্রতিশ্রুতি। তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে নতুন কোনও শিল্প হয়নি। পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব সময়ে দুর্গাপুরের উন্নয়ন নিয়ে সচেষ্ট। তাই ডিপিএল আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।