নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিহারে ভোটের মুখে ইন্টেনসিভ রিভিশন এবং বাদ যাওয়া ৬৫ লক্ষ ভোটার। এই একটি ইস্যু গোটা দেশে খলনায়কের অবস্থানে বসিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। কারণ, এরপরই বাংলা সহ গোটা দেশের পালা। সঙ্গে আতঙ্ক... এত বছর ভোট দিয়ে আসার পর হঠাৎ নিজদেশে পরবাসী হয়ে যাব না তো! আর এই শঙ্কার জের টেনেই সংসদের ভিতরে-বাইরে প্রতিবাদের গর্জন শোনা যাচ্ছে বিরোধীদের কণ্ঠে। তার পুরোভাগে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ইস্যুতে তিনি যে কেন্দ্র বা কমিশনকে এতটুকু ছেড়ে কথা বলবেন না, তার প্রমাণ মিলল বর্ধমানের প্রশাসনিক সভাতেও। মঙ্গলবার ওই মঞ্চ থেকেই তাঁর হুঙ্কার, ‘ভোট এলেই এনআরসি করতে হবে! ভোটার তালিকায় নাম কাটতে হবে! নির্বাচন কমিশনকে প্রণাম জানাই। কিন্তু বিজেপির হাতের ললিপপ হবেন না। তাহলে দেশের মানুষ ক্ষমা করবে না। যাঁরা বাংলার ভোটার, তাঁদের ভোট দিতে দিন। বাংলায় নাকি সব বাংলাদেশিরা থাকে!’
মাত্র চারদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় এসে সভা করে গিয়েছেন। সেখানে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বলেছেন, ‘দিল্লির পাঠানো টাকা লুট করা হচ্ছে।’ এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীকে মমতার পাল্টা আক্রমণ, ‘বাংলাকে সহ্য করতে পারেন না। বাংলাকে দেখলেই হিংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি। ওঁর উচিত, আমাদের চেয়ারকে সম্মান করা। বলছেন, বাংলায় সব চোর, তাই টাকা বন্ধ করেছি! মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের ডাবল ইঞ্জিন সরকার সবথেকে বড় চোর। বাংলাকে অসম্মান করার জন্য ১৮৬টি টিম পাঠিয়েছিল। সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তারপরও শূন্য নম্বর দিচ্ছে! কোনও ছাত্র সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার পর শূন্য পেলে কি সেটা মানতে পারে? চোরদের, গদ্দারদের নিয়ে উনি মিটিং করছেন।’
বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনার মতো প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। এক কানকাটা হলে আর একটা কান কাটার ভয় থাকে। ওদের তো দুটো কানই কাটা। লজ্জা করে না? বাংলাকে বঞ্চনা করছেন। তারপরও বাংলার উন্নয়ন থেমে যাবে না। আমরা টাকা দিয়ে কাজ করছি।’
বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস এখনও বাকি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ দাগছেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন কটাক্ষ করে বলেন, ‘পরিযায়ী পাখির মতো আসছেন। আমি চাই, উনি ৩৬৫ দিনই আসুন। সবকিছু তো আপনার ফ্রি। আমি কিন্তু একটা পয়সাও নিই না। সার্কিট হাউসে গেলেও টাকা দিয়ে থাকি। আমি টাকা চাই না, সম্মান চাই। বাংলা মায়ের গায়ে আঘাত লাগলে আমার সম্মানে লাগে। যত পারেন আমাকে গালি দিন, কুৎসা, চক্রান্ত করুন, লড়ে নেব। কিন্তু বাংলাকে অসম্মান করবেন না।’
বিজেপির নেতারা এর আগে যতবার সভা করতে এসেছেন, ততবার তাঁরা রামের নামে জয়ধ্বনি দিয়েছেন। কিন্তু এবার সুর পাল্টে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা।’ মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আগে বলতেন মমতাজি বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দেয় না। এখন আমাদের থেকেও জোরে বলছেন জয় মা দুর্গা। ভোট আসছে। তাই ভোটপাখিও আসছে। বাংলাকে সম্মান জানিয়ে লক্ষবার জয় বাংলা বলব। জয় বাংলা এখন সবার স্লোগান।’