Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডোমজুড়ে ইস্তফার হুঁশিয়ারি, মগরাহাটে ৮০ জন বিএলওর পদত্যাগ-বিক্ষোভ

নির্বাচন কমিশনের বিভ্রান্তিমূলক নির্দেশের প্রতিবাদে ইস্তফার পথে হাঁটছেন বিএলও’রা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মগরাহাটে উত্তেজনা ছড়াল।

ডোমজুড়ে ইস্তফার হুঁশিয়ারি, মগরাহাটে ৮০ জন বিএলওর পদত্যাগ-বিক্ষোভ
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: নির্বাচন কমিশনের বিভ্রান্তিমূলক নির্দেশের প্রতিবাদে ইস্তফার পথে হাঁটছেন বিএলও’রা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মগরাহাটে উত্তেজনা ছড়াল।    

Advertisement

বুধবার হাওড়ার ডোমজুড়ে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ১৭ জন বিএলও। বাঁকড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিএলওরা ডোমজুড় বিডিও অফিসে গিয়ে তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। যদিও ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়নি। বিএলওদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ইআরও সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন।
বিএলওদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন লিখিত গাইডলাইন না দিয়ে শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশে কাজ করতে বাধ্য করছে। হঠাৎ হঠাৎ নতুন নির্দেশে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাঁদের আরো অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বহু ভোটারকে বারবার শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। কমিশনের এই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ভোটারদের। বিএলওদের দাবি, শেষ পর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একের পর এক নতুন নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে বিএলওদের উপর। ভোটারদের কাছে তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে, কটু কথা শুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাঁকড়ার বিএলও তারিক আজিজ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের লিখিত গাইডলাইন চাই। মুখের কথায় আমাদের দিয়ে কাজ করানো যাবে না।’ ডোমজুড় ব্লক তৃণমূল সভাপতি তাপস মাইতি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিত্যনতুন নির্দেশে বিএলওরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তবে আমরা চাই, যোগ্য নাগরিকের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়।’ হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া জানান, ‘বিএলওরা ইস্তফাপত্র দিতে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তা জমা পড়েনি। তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ 
এদিনই মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ৮০ জন বিএলও গণইস্তফা দিলেন। ইস্তফাপত্র প্রথমে গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় বিএলওরা বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। রাস্তা অবরোধও হয়। মগরাহাট পশ্চিমের উস্থিতে দীর্ঘক্ষণ অবরোধের ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। বিএলও অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও অবরোধ হয়। বিডিও বিএলওদের ইস্তফাপত্র নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ ও বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। 
পাশাপাশি, ভাঙড়ে শানপুকুর এলাকার একটি বুথে ১৩০০ ভোটারের মধ্যে ৩৮০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে এদিন ভাঙড়ে সন্ধ্যায় বাসিন্দারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রতিবাদে ভাঙড়ের শানপুকুর নাগরিক মঞ্চের ডাকে রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ এলাকায় যায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ