Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবৈধ নির্মাণ আটকাতে ১৮টি নির্দেশিকা জারি জেলা পরিষদের

শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্ধমানের গ্রামীণ এলাকাও ক্রমশ বাড়ছে।

অবৈধ নির্মাণ আটকাতে ১৮টি নির্দেশিকা জারি জেলা পরিষদের
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শহরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বর্ধমানের গ্রামীণ এলাকাও ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ধমান শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে শহরের ছোঁয়া অনেক আগেই লেগেছে। তৈরি হচ্ছে বহুতল। দামের নিরিখেও শহরের বহুতলগুলির সঙ্গে টক্কর চলছে। কিন্তু, অনেক নির্মাণকারী সংস্থা কোনও নিয়ম মানছে না। তাতে বর্ধমান জেলা পরিষদের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। সেই কারণে তারা ১৮টি নির্দেশিকা কার্যকর করতে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণকারীদের পঞ্চায়েতের ছাড়পত্র জমা করতে হবে। কী কারণে নির্মাণ করা হচ্ছে সেটাও উল্লেখ করতে হবে। জমির পরচা, কনভারসেশন সার্টিফিকেট, খাজনার রসিদও জমা দিতে হবে। যাঁর নামে জমি রয়েছে তাঁর ভোটার, আধার এবং প্যান কার্ড জেলা পরিষদে দিতে হবে। নির্মাণের রূপরেখা কেমন হবে সেটাও জানাতে হবে। এছাড়া আরও কয়েকটি নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে।
বেলকাশ, সরাইটিকর, রায়ান-১, ক্ষেতিয়া এবং বৈকুণ্ঠপুরের দু’টি পঞ্চায়েত এলাকা বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থা তথা বিডিএ-র অধীনে রয়েছে। এসব এলাকায় নির্মাণ করতে হলে বিডিএ থেকেও অনুমতি দিতে হবে। এখান থেকে অনুমতি নেওয়ার জন্য ১৮টি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৈধ নথি জমা না করার জন্য বেশ কয়েকটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০টি আবেদনপত্র জমা হয়ে রয়েছে। সেগুলির নথি খতিয়ে দেখার পরই অনুমতি দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 
এবিষয়ে সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, বহুতল নির্মাণ করতে হলে প্রয়োজনীয় নথি জমা করতেই হবে। এছাড়া অন্য কোনও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার আগে অনুমতি নিতে হবে। কোথাও অবৈধ নির্মাণ হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, জেলা পরিষদের জায়গা কেউ দখল করার চেষ্টা করলেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্ধমান শহর সংলগ্ন এলাকায় বেশ জায়গায় অবৈধ নির্মাণ হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে উল্লাস উপনগরীতে একটি অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে জেলা পরিষদ কোমর বেঁধে নামে। ওই নির্মাণকারী সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হয়। কিছুদিন সেখানে কাজ বন্ধও থাকে। তারপর অবশ্য আবার সেখানে কাজ শুরু হয়। বর্ধমান শহরেও দু’টি অবৈধ নির্মাণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পুরসভা। একটি বহুতলের কিছু অংশ মেশিন দিয়ে ফুটো করে দেওয়া হয়। একদিকের অংশ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা হয়। এছাড়া বিল্ডিংয়ের আরও কোনও অংশ ভাঙা হয়নি। অন্য আর একটি অবৈধ নির্মাণ এখনও তারা ভাঙেনি। জেলার বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই অবৈধ নির্মাণকারীদের দাপট বেড়ে গিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ