সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: এবারে দীঘার জগন্নাথ মন্দির। পুজোয় এটাই থিম জোড়াপানি-ফুলেশ্বরী নদী বেষ্টিত জনশ্রী ক্লাব পরিচালিত ঘোগোমালি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের। বাঁশ, কাঠ, প্লাইবোর্ড প্রভৃতি দিয়ে জগন্নাথ মন্দির বানাচ্ছে জনশ্রী ক্লাব। এখানে দেবী দশভুজার সঙ্গে পূজিত হবেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। পুজোর প্রসাদ বিলি করা হবে দর্শনার্থীদের। প্রসাদের তালিকায় থাকছে বাতাসা, সন্দেশ, লাড্ডু, খাজা ও গজা। ক্লাব সম্পাদক প্রসেনজিৎ পাল বলেন, এবার পুজোর ৫৬তম বর্ষ। তা স্মরণীয় করে তুলতেই এমন থিম। যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে।
শিলিগুড়ি শহরের পূর্বদিকে অবস্থিত এই ক্লাব জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে। গত বছর দুর্গাপুজোয় থিম ছিল সিগারেটের বিরুদ্ধে। যা প্রশংসিত হয়। বিভিন্ন সংস্থার থেকে পুরস্কারও পেয়েছে এরা। এবারে বানাচ্ছে দীঘার জগন্নাথ মন্দির। স্থানীয় স্কুলের মাঠে প্রায় ২৩০ ফুট জায়গাজুড়ে মন্দির গড়ছেন স্থানীয় শিল্পী সন্দীপন নাথ।
ক্লাব সম্পাদক বলেন, এখানে ছ’টি মন্দির থাকবে। মণ্ডপের উচ্চতা ৬০ ফুট ও চওড়া ৭০ ফুট। রথযাত্রার দিন থেকে মণ্ডপের কাজ শুরু করেছি আমরা। সেই কাজ প্রায় শেষ। সবকিছু ঠিকঠাক চললে মহালয়ায় ভার্চুয়ালি মণ্ডপের উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই মণ্ডপে দেখা যাবে আধুনিক ও সাবেকের মিশেলে তৈরি দশভুজা।
শাড়ি পরা প্রতিমায় থাকবে ডাকের সাজ। এখানেই দুর্গার সঙ্গে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পুজো হবে। দর্শনার্থীরা দাঁড়িয়ে থেকে মণ্ডপের সূক্ষ্ম কারুকার্য ও প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। মৃৎশিল্পী সুশান্ত পাল সবক’টি প্রতিমা বানাচ্ছেন। প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের প্রসাদ বিলি করা হবে।
মণ্ডপের সঙ্গে মানানসই আলো ও সাউন্ডের খেলা দেখা যাবে। চেন, পিএল, হ্যালোজেন, মেটাল প্রভৃতি আলোয় রাতে মণ্ডপ ঝলমল করবে। আলোকসজ্জায় রয়েছেন শিল্পী প্রদীপ রায়চৌধুরী। ক্লাব সম্পাদক বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘায় তৈরি মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্দির দর্শনীয়স্থান এখন। ইচ্ছে থাকলেও এখানকার অনেকে সেখানে এখনও যেতে পারেননি। সেজন্যই হুবহু ওই মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়া হচ্ছে। সেখানে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কণ্ঠে একটি গান বাজানো হয়। সেই গান এখানেও শোনা যাবে। আমরা আশাবাদী, উদ্বোধনের দিন থেকেই দর্শনার্থীর ঢল নামবে। নিজস্ব চিত্র