সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা জগন্নাথধামের সামনে চৈতন্যদ্বার নির্মাণের জন্য দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে যান চলাচল ২৪ মার্চ থেকে আগামী ২০ দিন বন্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। এরফলে বিকল্প পথে গলি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। দীঘার প্রবেশপথে কিংবা ওড়িশামুখী রাস্তায় যানজট বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহণ সংগঠনের প্রতিনিধি, স্টল ব্যবসায়ীরা বুধবার দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার (ডিএসডিএ) কাছে বিকল্প যান চলাচলের ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। উল্লেখ্য, চৈতন্যদ্বারের মূল কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেই কারণে সোমবার জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী এক নির্দেশিকায় জানান, আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত জগন্নাথ মন্দিরের সামনে থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। সমস্ত ছোট গাড়ি মন্দিরের পিছনে ভগীব্রহ্মপুর গ্রামের রাস্তা ধরে নিউ দীঘা যাবে। বাস ও পণ্যবাহী লরি যাবে দীঘার বাইপাস রাস্তা ধরে। সেইমতো মঙ্গল ও বুধবার ভগীব্রহ্মপুরের রাস্তা ধরে টোটো, অটো, বাইক প্রভৃতি ছোট গাড়ি যাতায়াত করেছে।
মন্দিরের পাশে পাকা রাস্তা তৈরি হলেও গ্রামের ভিতরের রাস্তা খুব একটা ভালো নয়। তবে উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে রাস্তা সমান করা হয়েছে। যদিও দু’টি ছোট গাড়ি পাশাপাশি যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। এদিকে সৈকত শহরের ভিতর দিয়ে বাস ও পণ্যবাহী লরি যাতায়াত করতে পারছে না। তাদের বাইপাস রাস্তা ধরে যেতে হচ্ছে।
এর ফলে দীঘার প্রবেশদ্বার এবং ডিএসডিএ’র মূল প্রশাসনিক ভবনের সামনে বড় গাড়ির ভিড় বাড়ছে। আবার ওল্ড দীঘা বাসস্ট্যান্ডে পর্যটকরা সন্ধ্যার পর কলকাতা ফেরার বাস ধরতেন। তাঁদের এখন প্রায় দু’কিলোমিটার পথ হেঁটে বা টোটোয় গিয়ে দীঘা প্রবেশদ্বারের কাছে যেতে হচ্ছে। দীঘার বাসিন্দা সন্দীপ মিশ্র বলেন, ওল্ড দীঘা দিয়ে কোনও গাড়ি না ঢোকায় স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল কর্তৃপক্ষ, হাসপাতালের রোগী ও তাঁদের পরিজন, পরিবহণ সহ সব ধরনের ব্যবসায়ী সমস্যায় পড়ছেন। তাই আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, সমস্ত ধরনের বাস ও ছোট গাড়ি, পর্যটকদের গাড়ি, নেহরু মার্কেটের পশ্চিম দিকে বা দীঘা বাসস্ট্যান্ডের পিছনে পার্কিং রয়েছে, সেখানে রাখলে ভালো হয়। সেখানে বাস এসে যাত্রী ছেড়ে এবং তুলে আর এক দিক দিয়ে বেরিয়ে যাবে। এতে প্রশাসনকে সব দিক দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
উন্নয়ন সংস্থার মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অপূর্বকুমার বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল ব্যবসায়ী, পরিবহণ সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা এনিয়ে আলোচনা করছি। আশা করছি, শীঘ্রই সুষ্ঠু সমাধান হবে।