Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভারী বৃষ্টি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও শহরে ডেঙ্গু সংক্রমণ নাগালেই, তবুও নভেম্বর পর্যন্ত সতর্কতা চায় পুরসভা

চলতি বছর এখনও পর্যন্ত সেভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি কলকাতায়। তবে গত জুলাই মাসে লাগাতার বৃষ্টি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তাদের।

ভারী বৃষ্টি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও শহরে ডেঙ্গু সংক্রমণ নাগালেই, তবুও নভেম্বর পর্যন্ত সতর্কতা চায় পুরসভা
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক্য দে, কলকাতা: চলতি বছর এখনও পর্যন্ত সেভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি কলকাতায়। তবে গত জুলাই মাসে লাগাতার বৃষ্টি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে আগস্টের মাঝামাঝি এসেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যেই, দাবি পুরসভার। গত বছরের তুলনায় এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বাড়লেও পরিস্থিতি দুশ্চিন্তার নয়। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, এবারও বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ ঠেকাতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হয়েছে। লাগাতার নোটিস ধরানো হয়েছে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের। সব মিলিয়ে এবারও এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গিয়েছে মশাবাহিত রোগ সংক্রমণ। শহরবাসী সচেতন না হলে এই ধারাবাহিক সাফল্য মিলত না বলেই মনে করছেন পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তারা। 

Advertisement

গত জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের গোটা মাসেই ভালো পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে শহরে। চলতি মাসেও মাঝেমধ্যেই বিক্ষিপ্তভাবে শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জায়গায় জল জমে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ জনের বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন শহরে। পুরকর্তাদের দাবি, মনে করা হয়েছিল আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। যদিও আমাদের নভেম্বর মাস পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। শিথিল হলে চলবে না। 

এখনও পর্যন্ত শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত শহরে ২৫৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালের এই সময়কালে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৫ জনের বেশি মানুষ।  যদিও, ২০২৩ সালের এই একই সময়ে শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৮০ জন। ফলে সেই তুলনায় গত বছর অনেকটাই কম হয়েছিল প্রকোপ। এ বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। তবে বৃষ্টি নিয়ে চিন্তা থাকছেই পুর-স্বাস্থ্যকর্তাদের। তাঁদের বক্তব্য, এখনও বর্ষা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলবে। এই অবস্থায় লাগাতার নজরদারির উপরেই জোর দিচ্ছে পুরসভা। ভেক্টর কন্ট্রোলের যাবতীয় কাজ জোরকদমে চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 

এক পুর-স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় চলতি বছর শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বেশি। ২০২৩ সালে শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ রীতিমতো পুরসভার মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেঠিল। কারণ, সেই বছর আগস্টের তুলনায় বছর শেষে ডেঙ্গু সংক্রমণ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। এর থেকেই স্পষ্ট যে ভয় এখনও কাটেনি। গত বছর সন্তোষজনক অবস্থা ছিল বলেই যে এবছরও তাই থাকবে, তেমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তবে আমরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ