সংবাদদাতা, ডোমকল: একটা সময়ে ছিল কাঠের সেতু। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ডোমকল মিনিবাজারে কাঠের সেতুর পরিবর্তে কংক্রিটের সেতু তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছিল পুরসভা। শিয়ালমারি নদীর উপর ওই সেতুর সিংহভাগ অংশের কাজও শেষ হয়ে গিয়েছিল বছর আড়াই আগেই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দু’দিকের অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না হওয়ায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না সেতুটি। নদী শুকনো থাকলে সেতুর পাশ দিয়ে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়। রানিনগরের শিয়ালমারির এলাকায় পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি শিয়ালমারি নদীর। সেখান থেকে ডোমকলের উপর দিয়ে চাঁদেরপাড়ার ত্রিমোহিনীতে এসে জলঙ্গির সঙ্গে মিশে নদীয়ার করিমপুরের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত এই নদী দিয়ে প্রচুর বাণিজ্য চলত। কিন্তু পদ্মার গতিপথ সরে যাওয়ায় স্রোত হারিয়েছে শিয়ালমারি নদী। তবে ডোমকলের ওই এলাকায় এখনও বর্ষাকালে শিয়ালমারিতে জলথাকে।
ডোমকল শহরের দু’প্রান্তকে জুড়েছে ডোমকল করিমপুর রাজ্যসড়কের ওপরের এক পাকাসেতু। সেটিও দুর্বল। তারপরে দিনের বেশিরভাগ সময়েই ওই সেতুর ওপর যানজট থাকে। ওই সেতুটি ছাড়া বিকল্প রাস্তা না থাকায় প্রায় দু›যুগ আগে ডোমকল মিনি বাজারে কাঠের ওই সেটুটি তৈরি হয়। এতে একদিকে পাকাসেতুতে ভিড় জমলে অনেকেই বিকল্প কাঠের সেতুটি ব্যবহার করতেন। পাশপাশি ওই সেতু দিয়েই প্রায় এক কিমি ঘুরপথের পরিবর্তে বাবলাবোনা থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন বাজার, স্কুল, অফিসের কাজে ডোমকল শহরে আসতেন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে কাঠের সেতুটিও ভেঙে যায়। এরপরেই ডোমকল পুরসভার তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কাঠের সেতুর পরিবর্তে ডোমকল মিনিবাজারে শিয়ালমারি নদীর ওপরে কংক্রিটের সেতু তৈরি করা হবে। সেই মতো কাজও শুরু হয়। বর্তমানে ওই সেতুর সিংহভাগ কাজ শেষ।কিন্তু সেতুর দু›পারে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না হওয়ায় ওই সেতু ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল মণ্ডল বলেন, বিধায়ক বেঁচে থাকাকালীন কথা দিয়েছিলেন মিনিবাজারে কংক্রিটের ব্রিজ করে দেবেন। বিধায়ক হওয়ার পর সেই কাজও হয়। কিন্তু অ্যাপ্রোচ রোড না হওয়ায় আমরা ওই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারি না। আমরা চাই দ্রুত যেন ওই অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি করা হয়। ডোমকল পুরসভার প্রশাসক তথা ডোমকলের এসডিও শুভঙ্কর বালা বলেন, ব্রিজের বিষয়টি জানি। ব্যবস্থা নেওয়াহবে।