Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের বিক্ষোভ মিছিল, পথ অবরোধ

এমনই স্লোগান তুলে রবিবার রামপুরহাট শহরে বিক্ষোভ মিছিল করলেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকরা।

‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকদের  বিক্ষোভ মিছিল, পথ অবরোধ
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘পাপ করবে একজন, সাজা পাবে অন্যজন। এসএসসি ধিক্কার’। এমনই স্লোগান তুলে রবিবার রামপুরহাট শহরে বিক্ষোভ মিছিল করলেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকরা। শামিল হয়েছিলেন তাঁদের পরিবারের সদস্য থেকে ছোট্ট শিশুরাও। শিক্ষকরা শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড়ে বসে পড়ে রাস্তা অবরোধ করে চাকরি ফেরানোর দাবি তোলেন। তাঁদের সাফ কথা, সুপ্রিম রায়ে সরকার সাময়িক স্বস্তিতে থাকলেও আমরা আশ্বস্ত নই।  

Advertisement

এদিন শ’খানেক যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকারা রামপুরহাট রেলওয়ে চ্যাম্পিয়ন গ্রাউন্ড থেকে মিছিল করে পাঁচমাথা মোড়ে আসেন। সকলের হাতে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পুনর্বহালের দাবি লেখা প্ল্যাকার্ড। কেউ সন্তান কোলে, কেউবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। পাঁচমাথা মোড়ে গোল করে বসে পড়ে অবরোধ করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষকও। পরে তাঁদের বিক্ষোভ মিছিল গোটা শহর প্রদক্ষিণ করে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। অশিক্ষক কর্মীরাও আন্দোলনে ছিলেন।
মাড়গ্রাম হাইস্কুলের চাকরিহারা ফিজিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষিকা গার্গী বিশ্বাস স্বামী ও চার বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল করতে পারব বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এতে আমরা স্বস্তিতে নেই। আমরা তো এরজন্য পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিইনি যে কিছুদিন চাকরি করিয়ে টার্মিনেট করে দেবে। আমরা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী শিক্ষকতার চাকরি করব বলে পরীক্ষা দিয়েছিলাম। একটা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে যেটা এই চাকরির উপর ভরসা করে নিয়েছিলাম। এবার কী করে লোন পরিশোধ করব সেটা ভেবে পাচ্ছি না।
প্রাক্তন শিক্ষক অধীর দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, কেন যোগ্য঩দের আলাদা করা গেল না। যেখানে কোর্ট বলে দিচ্ছে কারা কারা স্কুলে যেতে পারবেন, কারা পারবেন না। তাহলে যোগ্য শিক্ষকদের কেন পুনর্বহাল করা হবে না। তাছাড়া যারা এসিডিও, ডিএম বা বিচারপতি পদে আট-দশবছর ধরে চাকরি করছেন, তাঁদের আবার পরীক্ষায় বসানো হোক। দেখি কতজন পাশ করতে পারেন। আমাদের একটাই দাবি, যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুনর্বহাল করতে হবে। চোরদের শাস্তি না দিয়ে কেন যোগ্য শিক্ষকদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে সেই জবাবও চাইছি। 
অন্যদিকে, চাকরিহারা দক্ষিণগ্রাম জগত্তারিণী বিদ্যায়তনের শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের পর আমাদের কী হবে, সেটা নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই প্রবল অস্বস্তির মধ্যে আছি। তাই সরকার যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের জন্য সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিচ্ছে ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। হকের চাকরি ফেরত চাই। স্বমহিমায় স্কুলে ফিরতে চাই। এই দাবিতে সোমবার এসএসসি অভিযানে যাচ্ছি। তারজন্য গণস্বাক্ষরও সংগ্রহ করছি। সিবিআইয়ের দ্বারা আমরা অপরাধী হিসাবে প্রমাণিত হইনি। আমরা চাই, অবিলম্বে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হোক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ