Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ডেঙ্গুর প্রকোপ কমলেও শীতের ৩ মাস কলকাতা পুরসভার নজরে ‘মাদার ফসি’

বছরের শেষের দিকে এসে কলকাতায় আচমকা বাড়তে শুরু করেছিল ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। কলকাতা পুরসভার ৯ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে নতুন করে ১৩৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ কমলেও শীতের ৩ মাস কলকাতা পুরসভার নজরে ‘মাদার ফসি’
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের শেষের দিকে এসে কলকাতায় আচমকা বাড়তে শুরু করেছিল ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। কলকাতা পুরসভার ৯ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে নতুন করে ১৩৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছর সাপ্তাহিক বৃদ্ধির নিরিখে এটাই ছিল সর্বোচ্চ। সংক্রমণ বৃদ্ধির সেই গ্রাফ আবারও নিম্নমুখী। ২৩ নভেম্বরের হিসেব বলছে, গত সপ্তাহে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১২২। পুরসভার স্বাস্থ্যকর্তাদের ব্যাখ্যা, শীত পড়েছে শহরে। এবার আস্তে আস্তে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও কমবে। তবুও শীতের এই তিন মাস পুরসভার কড়া নজরে থাকবে ডেঙ্গু মশা বা লার্ভার মাতৃকেন্দ্রের (মাদার ফসি) উপর। বছরের এই ক’মাস ‘মাদার ফসি’-এ ডেঙ্গুর মশা কোনওরকমে বেঁচেবর্তে থাকে। সংখ্যায় অল্প হলেও যা একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তাই এই জায়গাগুলিতে লাগাতার নজরদারি চালিয়ে ডেঙ্গুর মশা এবং লার্ভা নষ্ট করা হচ্ছে।

Advertisement

পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৫০১ জন। ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১৩৭৯। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ১২২ জন নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তার আগে ৯ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সাপ্তাহিক বৃদ্ধি ছিল ১৩৪। ২ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ জন। পুরসভার এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, ‘নভেম্বরের শুরুতে আচমকা ডেঙ্গুর সাপ্তাহিক বৃদ্ধির গ্রাফ উঠে যায়। কিন্তু, নভেম্বরের শেষে এসে আক্রান্ত কমছে। আসলে ১৬ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে যে রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছে, তাতে ৫৬ জনের শরীরে ডেঙ্গু সংক্রমণ ধরা পড়ে। ১২২ জন নতুন করে আক্রান্তের মধ্যে বাকি ৬৬ জনের রক্ত পরীক্ষা ১৬ নভেম্বরের আগে হয়েছিল। ফলে এক সপ্তাহেই এতটা বেড়েছে, সেই হিসেব টেকনিক্যালি ঠিক নয়।’ 
শীতের তিন মাস শহরে ডেঙ্গু সংক্রমণ সেভাবে না হলেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে পুরসভা ‘মাদার-ফসি’-তে নজর রাখছে। পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবেশ প্রতিকূল হলেও শীতকালে কিন্তু ডেঙ্গুর মশা বেঁচেবর্তে থাকে। বর্ষাকালে ১০০টি বাড়িতে গেলে অধিকাংশ বাড়িতে কন্টেনারে এডিস মশা পাওয়া যায়। কিন্তু এখন সেই সংখ্যাটাই একটা বা দু’টি। তাহলে সেই এডিস মশা গেল কোথায়? এহেন প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এডিস মশা যেখানে ডিম পাড়ে, সেই জায়গাকেই বলে মাদার ফসি বা মাতৃকেন্দ্র।’ দেবাশিসবাবুর সংযোজন, ‘নির্মীয়মান বিল্ডিংয়ে কোনা-ঘুপচিতে একটু নোংরা জল জমে থাকলেও সেখানে ডেঙ্গুর মশা জন্মায়। পরিত্যক্ত জলের ট্যাঙ্ক বা রিজার্ভার, যার তলায় সামান্য জল রয়েছে, সেখানেও শীতের এই কয়েক মাস ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মশা জন্মায়। এসবই হচ্ছে মাদার ফসি।’

সম্পর্কিত সংবাদ