Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জ্ঞানেশ-অপসারণের দাবি, কমিশন ধমকানোর কে? ক্ষুব্ধ বিরোধীরা

কমিশনের পাল্টা হুঙ্কার এবার বিরোধীদেরও। একজোট ‘ইন্ডিয়া’। স্রেফ কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতেই শেষ নয়। পক্ষপাতিত্ব করলে জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে অপসারণের দাবিও তুলছে বিরোধীরা।

জ্ঞানেশ-অপসারণের দাবি, কমিশন ধমকানোর কে? ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: কমিশনের পাল্টা হুঙ্কার এবার বিরোধীদেরও। একজোট ‘ইন্ডিয়া’। স্রেফ কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতেই শেষ নয়। পক্ষপাতিত্ব করলে জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদ থেকে অপসারণের দাবিও তুলছে বিরোধীরা। কোনও বিচারপতিকে পদ থেকে সরানোর যে প্রক্রিয়া, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও তাই। প্রথমে কমপক্ষে ৫০ জন সাংসদের সই করা চিঠি। তারপর লোকসভায় ভোটাভুটিতে দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা। একই প্রক্রিয়া রাজ্যসভাতেও। যদিও বিরোধীদের কাছে ‘নম্বর’ না থাকায় এই দাবি কতটা কার্যকর করা যাবে, সে নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাছাড়া চলতি বাদল অধিবেশনে আর মাত্র তিনদিন বাকি। তাই এখনই এই প্রক্রিয়ায় না নেমে অদূর ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখার পথেই এগচ্ছে বিরোধীরা। সোমবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সেই ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদদের তরফে। মূল্য লক্ষ্য একটাই—জ্ঞানেশ কুমারকে ‘চাপে’ রাখা। 

Advertisement

তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেই দিয়েছেন, ‘প্রয়োজনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া সংসদের আগামী অধিবেশনে আনা হবে। কারণ, তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না। এই কমিশন সংবিধান বিরোধী, গণতন্ত্রের পরিপন্থী।’ রাহুল গান্ধীর পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তাঁর তোপ, ‘ভোট চুরির অভিযোগে সরব হওয়ায় রাহুল গান্ধীকে হলফনামা দিতে বলছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কেন দেবেন? কমিশনের কাজ তদন্ত করা। কেন করছে না? সাহস থাকলে জ্ঞানেশ কুমার হলফনামা দিয়ে বলুন, এসআইআরের পরও ভোটার তালিকায় ভুলভ্রান্তি থাকলে তিনি ইস্তফা দেবেন।’ এদিন বিমানবন্দরেও অভিষেক বলেছেন, ‘আমাদের কোনও প্রশ্নের সদুত্তর কমিশন দিতে পারেনি। উল্টে বিরোধীদের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা হয়েছে। কমিশনের গাইডলাইনই বলছে, কোনওরকম হলফনামার প্রয়োজন হয় না। ভোটার তালিকায় গরমিলের যদি অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্বতঃপ্রণোদিত কগনিজেন্স নিয়ে পদক্ষেপের ক্ষমতা ইআরও’র আছে। দায় সম্পূর্ণ কমিশনের।’ অভিষেকের দাবি, ‘আসলে বিজেপি মানুষের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। তাই কমিশনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্র করছে। কমিশন স্বীকার করে নিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মৃত ব্যক্তির নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়। যাদের তত্ত্বাবধানে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হল, তাহলে তদন্ত করে তাঁদের জেলে ঢোকানো উচিত।’ 
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে নাম না করে রাহুল গান্ধীকে রীতিমতো ‘আলটিমেটাম’ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। সাতদিনের মধ্যে হলফনামা দিন। নয়তো প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তার জেরেই ক্ষিপ্ত বিরোধীরা। এদিনও সংসদ উত্তাল করেছে তারা। ওয়েলে স্লোগান উঠেছে, ‘নির্বাচন কমিশন চোর হ্যায়।’ ‘চৌকিদার চোর হ্যায়।’ ‘ভোট চোর গদ্দি চোর।’ প্রবল বিক্ষোভে সভা মুলতুবি করে দিতে বাধ্য হন স্পিকার ওম বিড়লা। হট্টগোলের মধ্যেই অবশ্য রাজ্যসভায় পাশ হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান পোর্টস বিল, ২০২৫।’
রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে অভিযোগের সুরে বলেন, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তো আমাদের হুমকি দিচ্ছেন! রাজনৈতিক দলকে তার কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। তাই বিরোধীরা একজোট হয়ে এদিন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। গৌরব গগৈ, মহুয়া মৈত্র, রামগোপাল যাদব, জন ব্রিটাস, সঞ্জয় সিং, অরবিন্দ সওয়ান্ত, তিরুচি শিবা, মনোজ ঝা’র মতো বিরোধী দলের সাংসদরা একজোট হয়ে অভিযোগের সুরে বললেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষ নন। বিজেপির ‘বি টিম।’ 

সম্পর্কিত সংবাদ