সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ‘ল্যাপারোস্কোপিক’ অস্ত্রোপচারের দাবি তুলছেন স্থানীয়রা। বহু মানুষ নির্ভরশীল এই হাসপাতালের উপর। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, আমাদের হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার যেটা আছে সেটাতে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি হবে না। কিন্তু করার মতো জায়গা আছে। আমি এই দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে হার্নিয়া, গল ব্লাডার, টিউমার, পিত্তথলির পাথর সহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচার সহজেই করা যায়। কলকাতায় এখন এই পদ্ধতিতে ক্যানসার রোগীদেরও অস্ত্রোপচার কর হয়। সাধারণ অস্ত্রোপচারের চেয়ে এতে ঝুঁকি কম। রক্তপাত কম হয়। রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে কাজে ফিরতে পারবেন। তাছাড়া নিখুঁত ও নিরাপদ অস্ত্রোপচার করা হয়। এছারা রোগীর শরীরে ক্ষতের আকারও ছোট হয়। এখন এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে হার্নিয়া, গলব্লাডার অস্ত্রপচার করতে গিয়ে বহু টাকা খরচ হয়। কিন্তু গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। তাই সবার দাবি, ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি মহকুমা হাসপাতালে চালু করা হোক। অনেক জেলায় মহকুমা হাসপাতালে এই পদ্ধতিতে অপারেশন হয়। কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও এই পদ্ধতিতে অপারেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলার মানুষ নির্ভরশীল। প্রতি মাসে কাটোয়ায় গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ জন রোগীর বড় ধরনের অস্ত্রোপচার হয়। হাসপাতালে তিনজন শল্য চিকিৎসক রয়েছেন। আগেই হাসপাতালে মুর্মূষু রোগীদের জন্য তৈরি হয়েছে এইচডিইউ বিভাগ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় হাজারের কাছাকাছি রোগীকে আউটডোরে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। হাসপাতালে নতুন আরও একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চারতলা ভবন তৈরি হয়েছে। নতুন ভবনের চারতলায় ১৮টি বেড বিশিষ্ট ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট রয়েছে। সেখানেই আধুনিক এমন পদ্ধতি চালু হোক সবাই চাইছেন। এছাড়াও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বিভাগ ওই নতুন ভবনে চালু করার কথা। এখনও তা চালু হয়নি। এই মুহূর্তে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে প্রসূতি, পুরুষ, মহিলা, শিশু সহ মোট ২৮৬টি শয্যার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভিতরে জায়গা অপরিসর থাকায় ২৫৬টি শয্যা রয়েছে। তাছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। হাসপাতালের পরিকাঠামো থাকলেও কর্মী সংখ্যা কম। হাসপাতালের দাবি, নতুন ভবনে পরিষেবা চালু করতে গেলে অন্তত ১০ জন সিকিউরিটি দরকার। এখন সেখানে মাত্র দু’ জন সিকিউরিটি রয়েছে। তাছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মী থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসক প্রয়োজন। বার বার রাজ্য স্বাস্থ্যভবনে প্রস্তাব পাঠিয়েও তা মেলেনি।



