Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিউড়িতে চাহিদা কমেছে মোরব্বার কিনতে আগ্রহী শুধু ভিনজেলার মানুষ

দিনের পর দিন সিউড়ি তথা বীরভূমের মানুষ স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে উঠেছেন

সিউড়িতে চাহিদা কমেছে মোরব্বার কিনতে আগ্রহী শুধু ভিনজেলার মানুষ
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরভ বড়াল, সিউড়ি: দিনের পর দিন সিউড়ি তথা বীরভূমের মানুষ স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে উঠেছেন। তাই একসময় নববর্ষে সিউড়ির কড়া পাকের মোরব্বার বিপুল চাহিদা থাকলেও এখন আর তা নেই। তবে বীরভূমের এই বিখ্যাত মিষ্টি একবার চেখে দেখার জন্য ভিনজেলা ও কলকাতার বাসিন্দারা আগ্রহ দেখান। মুখ্যমন্ত্রী এই জেলায় মোরব্বা হাব তৈরির পরিকল্পনা নিলেও তা এখনও গড়ে ওঠেনি। সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডে একটি সরকারি জমি মোরব্বা হাব তৈরির জন্য শনাক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এলাকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আগ্রহ না থাকায় সেই পরিকল্পনা থমকে গিয়েছে।

Advertisement

মোরব্বা বিক্রেতারা জানান, সাধারণ মানুষের এই মিষ্টান্নের প্রতি আগ্রহ না থাকায় অনেকেই মোরব্বা প্রস্তুত করা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন সিউড়িতে শুধুমাত্র তিন-চারটি মিষ্টির দোকানে মোরব্বা বিক্রি হতে দেখা যায়। তাছাড়া এই জেলার রামপুরহাট, বোলপুর সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় মোরব্বার দেখা মেলা ভার। মিষ্টি বিক্রেতারা জানান, অতীতে নববর্ষে সাধারণ মানুষের কাছে মোরব্বার বিশেষ চাহিদা ছিল। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কড়া পাকের এই দামী মিষ্টি বাঙালির অতিথি আপ্যায়নে স্থান করে নিতে পারে না। কারণ এখন বাজারে মোরব্বার দাম সাধারণ মিষ্টির তুলনায় অনেক বেশি।
জেলার ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৭১৮সালে রাজনগরের বাসিন্দা বদরুজ্জামান একজন উজির ছিলেন। তিনি একসময় বেনারস, লখনৌ ঘুরতে গিয়ে এই মোরব্বার সন্ধান পান। তিনি সেখান থেকে কারিগর এনে মোরব্বা প্রস্তুত শুরু করেন। সেসময় শুধুমাত্র চালকুমড়ো, বেল, আমলকির মোরব্বা হতো। তবে এই ইতিহাস নিয়ে কিছু মতভেদ আছে। 
চিনির কড়া পাক দিয়ে যে কোনও সব্জি বা ফলকে মোরব্বায় পরিণত করা হয়। সিউড়িতে একসময় বিভিন্ন দোকানে মোরব্বা কমবেশি বিক্রি হতো। কেক বা অন্য মিষ্টি তৈরির সময় তাতে এই মোরব্বা ব্যবহারের প্রচলন এখনও রয়েছে।
সিউড়ি শহরের তিন-চারটি দোকানে কার্যত জেলার মান রক্ষার্থে মোরব্বা তৈরি করা হয়। সেই সব দোকানদাররা জানান, বীরভূমের মানুষ আর মোরব্বা নিয়ে আগ্রহ দেখান না। জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাইরে থেকে যখন লোকজন বেড়াতে আসেন, তখন সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া দোকান থেকে মোরব্বা কিনে নিয়ে যান। এখন চালকুমড়ো, বেল, আমলকি, হরিতকী, শতমূল, চেরী, পেঁপে, গাজর, কামরাঙ্গা, আম, আদা, লঙ্কা, আনারস, আপেল, নাসপাতি সহ একাধিক সব্জি ও ফলের মোরব্বা বিক্রি করা হয়। দাম থাকে ১৬০-৩০০টাকা কেজি।
সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডের একটি মিষ্টির দোকানের মালিক সুশান্ত সাহা বলেন, মানুষ এখন অনেক স্বাস্থ্য সচেতন। মোরব্বা খুবই কড়া পাকের মিষ্টি। তাই এই মিষ্টির প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক কমেছে। মোরব্বা হাব করার কথা শোনা যাচ্ছিল। হয়তো মানুষের এই মিষ্টির প্রতি আগ্রহ কম থাকায় সেটা আর হয়নি। আমার দোকানে নানাধরনের মোরব্বা তৈরি করি। কবে পরিমাণে খুব কম। মূলত জেলার বাইরের মানুষ বা কলকাতার পর্যটকরা বীরভূমে এলে মোরব্বা কিনে নিয়ে যান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ