অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: বাড়ছে গরম। দুপুরে চড়া রোদ। ঘরেও চরম গরমে অস্বস্তি বাড়ছে মানুষের। আর তারই সঙ্গে কাটোয়া শহরজুড়ে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এসি ও কুলার কেনা। শহরের ছোট-বড় দোকানগুলিতে জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের টানতে দেওয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার। এসি কেনার ধুম দেখে জোর চর্চা চলছে শহরে।
গরমের শুরু থেকেই কাটোয়া শহরে অস্বস্তি বেড়েছে। নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই এসি, এয়ারকুলার, স্ট্যান্ড ফ্যান কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। শহরের সমস্ত দোকানে এসি কেনার ভিড় বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ঘরে এসি লাগানোর জন্য মিস্ত্রিও পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা ৭-১০দিন পরে তারিখ দিচ্ছেন ক্রেতাদের।
জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরে একটি বহুজাতিক সংস্থার শোরুম থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫টি এসি বিক্রি হচ্ছে। ওই সংস্থার শোরুমে একদিনে সর্বাধিক ১০০টি অবধি এসি বিক্রি হয়েছে। কাটোয়ার কাছারি রোডের একটি দোকানে চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০টি এসি বিক্রি হয়েছে। এখন ক্রেতা টানতে অল্প টাকায় ফাইনান্সে এসি বিক্রি হচ্ছে। সার্কাস ময়দানে একটি দোকানে চলতি মরশুমে প্রায় ২০টির কাছাকাছি এসি বিক্রি হয়েছে। পাশের আরও একটি দোকানে ৪০টি এসি বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ী অয়ন সিংহ বলেন, আগের থেকে এই বছরে এসি বিক্রি ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছে। কুলারের চাহিদাও বেড়েছে। আমরা জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছি।
স্থানীয় এক দোকানের মালিক জানান, গরমের শুরুতেই এখনও পর্যন্ত কাটোয়া শহরে প্রায় ২০০টি এসি বিক্রি হয়েছে। চরম গরমে মানুষ থাকতে না পেরে এসি লাগাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার নিদেনপক্ষে স্ট্যান্ড ফ্যানও কিনছেন। আসলে ইএমআই-এর সুবিধা থাকায় এসি কেনার হিড়িক বেড়ে গিয়েছে। অনেকে আবার অফারে শূন্য শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েও দামি এসি ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে যে হারে এসি বিক্রি হচ্ছে, সেই তুলনায় বিদ্যুৎ দপ্তরে অনুমতি নিচ্ছেন না ক্রেতারা। কাটোয়া বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার রাহুল আগরওয়াল বলেন, এসি কিনলে অবশ্যই বিদ্যুৎ দপ্তরে অনলাইন বা অফলাইনে লোড বাড়ানোর জন্য অনুমতি নিতে হবে। নাহলে অভিযানে নেমে ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।