দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: আবারও ‘ফেল’ দিল্লির ডাবল ইঞ্জিন সরকার! দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাস্তায় জল জমে না বলে বিজেপি সরকার দাবি করে আসছে। কিন্তু সেই দাবি উড়িয়ে মঙ্গলবার মরশুমের ভারী বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন দেশের রাজধানী। সকালের ব্যস্ত সময়ে তীব্র যানজটে নাকাল হতে হল শহরবাসীকে। অফিস যাত্রীদেরও ভোগান্তি চরমে।
বাংলায় বর্ষাকালে রাস্তায় জল জমলেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় মুখর হয় গেরুয়া শিবির। কাকতালীয়ভাবে এদিন সকালে শহর জলবন্দি হয়ে পড়ায় দিল্লিতে সেই বঙ্গ বিজেপিরই বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক বাতিল করতে হল। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েই নিন্দায় মুখর প্রাক্তন শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ)। আপের অভিযোগ, দিল্লির বিজেপি সরকারের প্রতিশ্রুতির ফানুস অল্প দিনেই ফেটে গিয়েছে।
এদিন সকালে রাজধানীর অভিজাত এলাকা সিভিল লাইনসে উপরাজ্যপালের বাড়ির কাছেই প্রবল বৃষ্টিতে দেওয়াল চাপা পড়ে মা এবং ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দু’জন। আহতদের একজন ওই মহিলার আর এক ছেলে। দিল্লির বিরোধী রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, সিভিল লাইনসের মতো এলাকাই যেখানে সুরক্ষিত নয়, সেখানে গোটা শহরের পরিস্থিতি সহজে অনুমেয়। এদিন সকালে ঘণ্টাখানেকের ভারী বৃষ্টিতেই সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ে দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেস। যা একপ্রকার নজিরবিহীন বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আইটিও, দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ, আম্বেদকর স্টেডিয়াম, প্রগতি ময়দান এলাকা, রাজাজি মার্গ, নিউ দিল্লি স্টেশন সংলগ্ন কমলা মার্কেট সহ একাধিক স্থানে জল জমে যায়। স্টেশন লাগোয়া চত্বর জলবন্দি হয়ে পড়ায় ট্রেন ধরতেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে রেলযাত্রীদের। কমবেশি আধঘণ্টার দূরত্ব পেরতে লেগে যায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টা।
মৌসম ভবন সকালেই দিল্লি-এনসিআরে লাল সতর্কতা জারি করে। দফায় দফায় যানবাহন চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করে দিল্লি ট্রাফিক পুলিস। প্রবল বৃষ্টির কারণে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচলেও দেরি হয়েছে এদিন। বিজেপি শিবিরের অবশ্য সাফাই, দিল্লিবাসীর এই ভোগান্তি আদতে পূর্বতন আপ সরকারের অপদার্থতার কারণেই। কয়েক বছর আগে দিল্লিতে নজিরবিহীন বন্যা দেখেছিল সাধারণ মানুষ। যমুনার জল ছাপিয়ে ঢুকেছিল দিল্লিতে। ভারী বৃষ্টিতে ফের যমুনার জলস্তর বাড়ছে। আশঙ্কাও।