নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দেগঙ্গায় বাড়ছে অজানা জ্বর। একইসঙ্গে স্থানীয় বেড়াচাঁপা ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, সরকারিভাবে এই তথ্য হাতে পাওয়ার পরই তৎপর হল ব্লক প্রশাসন। শুক্রবার দুপুরে দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম চ্যাংদানা এলাকায় করা হয় হেল্থ চেক আপ ক্যাম্প। এদিন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী, আধিকারিক সহ চিকিৎসকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে কী করণীয় বোঝান। জমা জল পরিষ্কার করা সম্পর্কেও সচেতন করেন।
কয়েকবছর আগেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিয়েছিল দেগঙ্গা ব্লকে। অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এবছরও অতিবৃষ্টির ফলে জলমগ্ন হয়েছে দেগঙ্গা। আর জমা জলের কারণে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেগঙ্গা ব্লকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮। এছাড়াও অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার হাদিপুর ঝিকরা পঞ্চায়েতের পুকুরআটি গ্রামের নয় বছরের নাবালিকার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তাই জ্বর এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ যাতে নাগালের বাইরে না যায়, তার জন্য শুক্রবার স্বাস্থ্য শিবির করে আক্রান্তদের পরীক্ষা সহ ডেঙ্গু নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উপর জোর দিয়েছে ব্লক এবং জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। বেড়াচাঁপা ১ পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ১০ জনের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খরব মিলেছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজন এখনও বারাসতের সরকারি ও বেসরকারি হাসপতালে চিকিৎসাধীন। বাকিরা বাড়িতে আছেন। এদিন পশ্চিম চ্যাংদানা গ্রামে জেলা ও ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির করা হয়। ক্যাম্প থেকে জ্বরে আক্রান্তদের স্বাস্থ্য ও রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে রক্তে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। সকাল ১১টা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত শিবির চলে। এই প্রসঙ্গে দেগঙ্গার বিডিও ফাহিম আলম বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ রুখতে এদিন বেড়াচাঁপার পশ্চিম চ্যাংদানা গ্রামে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্যাম্প করা হয়েছে। ক্যাম্প থেকে জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা করানো হয়েছে।