সংবাদদাতা, বোলপুর: এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দশম স্থান অধিকার করে তাক লাগালেন বোলপুরের দীপ অধিকারী। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮। তিনি বোলপুর নিচুপট্টি নীরদবরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্র। অভাবের মধ্যেই বড় হয়েছেন দীপ। পেশায় নিরাপত্তারক্ষী বাবা শ্যামল অধিকারী কর্মসূত্রে সুদূর দিল্লিতে রয়েছেন। বছরে মাত্র একবার বাড়ি আসেন। তাঁর সামান্য উপার্জনেই সংসার চলে। অভাবের মধ্যে বড় হওয়ায় জীবনে কিছু করার তাগিদ থেকেই এই সাফল্য, জানিয়েছেন দীপ। আগামী দিনে তাঁর ভূগোল অথবা বিদেশি ভাষা নিয়ে পড়ার ইচ্ছা রয়েছে। ভবিষ্যতে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে দীপের। তাঁর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্কুল কর্তৃপক্ষ।
দীপের বাড়ি বোলপুরের নায়েকপাড়ায়। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়ির উল্টোদিকেই তাঁর বাড়ি। দীপের বাবা শ্যামলবাবু কর্মসূত্রে প্রায় ২০বছর ধরে দিল্লিতে রয়েছেন। মা রুম্পাদেবী ও দিদাকে নিয়ে ছোট্ট পরিবার। রুটিনমাফিক পড়াশোনায় বিশ্বাসী নন দীপ। যখন ইচ্ছা করত, তখনই পড়াশোনা করতেন। তবে টেস্টের পর নিয়মিত ভোর ৩টেয় উঠে পড়াশোনা করতেন। কলা বিভাগ থেকেও যে মেধা তালিকায় জায়গা পাওয়া যায়, তার বড় উদাহরণ দীপ। তিনি বাংলায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯৩, ভূগোল, অর্থনীতি ও এডুকেশনে ৯৮ এবং দর্শনে ৯৭ পেয়েছেন। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপ বরাবরই মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা, নাটক, কিংবা খেলাধুলা, সবেতেই পারদর্শী তিনি। নিজের সাফল্য প্রসঙ্গে দীপ বলেন, নম্বর ভালো হবে, আশাবাদী ছিলাম। তবে মেধা তালিকায় জায়গা পাব, মোটেই ভাবিনি। মাধ্যমিকে নম্বর অনেকটা কমে গিয়েছিল। ৮০ শতাংশ পেয়েছিলাম। যা প্রত্যাশার থেকে অনেকটাই কম। তখন থেকে জেদ ধরেছিলাম উচ্চ মাধ্যমিকে কিছু করে দেখানোর। তাই নিয়মমাফিক পড়াশোনা করেই এই সাফল্য। তবে বাবা আমার অনুপ্রেরণা। স্কুলের ও টিউশনের শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রয়াসেই এত ভালো নম্বর পেয়েছি। তাই শিক্ষকদের কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে পরিবারের অভাব দূর করাই আমার পরবর্তী লক্ষ্য। তাই উচ্চশিক্ষায় ভূগোল অথবা বিদেশি ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। ভবিষ্যতে আমার আইএএস হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। তবে, উচ্চশিক্ষায় প্রচুর খরচ। একটু হলেও সেটা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তায় রয়েছি। প্রশাসন যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে নিজের স্বপ্নপূরণ করতে পারব।
স্কুলের সার্বিক ফলাফলে অত্যন্ত খুশি নিচুপট্টি নীরদবরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন হালদার। অভাবী ঘরের ছেলে দীপের সাফল্যে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, দীপের এই ফলাফলে গর্বিত। আমরা সকলেই ওর পাশে আছি। দীপের সাফল্যে প্রতিবেশী মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও অত্যন্ত গর্বিত। তিনি বলেন, ছোট থেকেই ওকে দেখছি। অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় যাতে আর্থিক সমস্যা না হয়, তারজন্য সবসময় ওর পাশে আছি।
দীপ অধিকারীকে সম্বর্ধনা দিচ্ছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন হালদার।-নিজস্ব চিত্র