Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম বর্ধমানে নেই ‘সুইড’-এর দপ্তর সেই সুযোগে চলছে দেদার জল লুট

পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ অংশ খনি অঞ্চল। ভূগর্ভস্থ জলের আকাল।

পশ্চিম বর্ধমানে নেই ‘সুইড’-এর দপ্তর সেই সুযোগে চলছে দেদার জল লুট
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ অংশ খনি অঞ্চল। ভূগর্ভস্থ জলের আকাল। একাধিক এলাকায় বোরিং করে জল তোলায় নিষেধাজ্ঞা আছে। এহেন এলাকা঩তেই ভূগর্ভস্থ জল চুরির একাধিক অভিযোগ উঠছে। দুর্গাপুরের পাশাপাশি অণ্ডালের বিমান উপনগরি থেকেও একাধিক অভিযোগ পেয়েছে প্রশাসন।

Advertisement

কিন্তু অভিযোগ পেলে কী হবে, ব্যবস্থা নেবে কে? স্টেট ওয়াটার ইনভেস্টিগেশন ডাইরেক্টরেট বা সংক্ষেপে সুইড (এসডব্লআইডি) ভূগর্ভস্থ জল তোলার অনুমতি দেওয়া থেকে শুরু করে পানীয় জলের মান যাচা‌ই করা, ভূগর্ভস্থ জল চুরির অভিযোগের তদন্ত সমস্ত দায়িত্ব পালন করে। সরকারি এই দপ্তরের অফিসই নেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। ২০১৭ সালে নতুন জেলা হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ওই বিভাগের একজন মাত্র কর্মী জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও আবার পূর্ব বর্ধমানের জেলা সদরেই বসেন। পূর্ব বর্ধমানের আধিকারিকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কোনওরকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে কাজ। যার জেরে চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ। নজরদারির অভাবে প্রমোটার থেকে শুরু করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া ভাবে জল লুট করে চলেছেন। আর যাঁরা বৈধ ভাবে জল তোলার অনুমতি নিতে চান, তাঁরা জেলায় দপ্তরের অফিস না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, জেলায় সুইডের অফিস করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা অভিযোগগুলি পেলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে পাঠাই। অণ্ডালে সাম্প্রতিককালে জল চুরির একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। 
মঙ্গলবার ছিল সু‌ইডের জেলা পর্যায়ের বৈঠক। বৈঠক শেষে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত জিওলজিস্ট কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। এমনকী তাঁর কাছে জেলার ভূগর্ভস্থ জলের স্তরের কী অবস্থা জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, বর্ধমানে গিয়ে খোঁজ নিন। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতেই কেঁচো খুড়তে কেউটে বের হওয়ার দশা। আট বছর পরও জেলায় এই দপ্তর কার্যত অস্তিত্বহীন। সপ্তাহে একদিন করে পূর্ব বর্ধমানের আধিকারিক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে জেলায় আসেন। আসানসোল দুর্গাপুর বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। দুই মেগাসিটির পাশাপাশি অণ্ডাল, রানিগঞ্জ, পানাগড়, কুলটি, জামুড়িয়ায় গড়ে উঠছে মেগা হাউসিং প্রজেক্ট। সেখানে ভূগর্ভস্থ জল চুরি হচ্ছে কি না, তার নজরদারির জন্য এই দপ্তরের কর্মী, আধিকারিকদের এখানে অত্যন্ত সক্রিয় থাকার কথা। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ধরা পড়ছে। 
সবচেয়ে সমস্যায় ব্যবসায়ীরা। নতুন কোনও প্রজেক্ট গড়তে গেলে সুইডের অনুমতি প্রয়োজন। তাই ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন দপ্তর গড়ার দাবি করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জেলা প্রশাসনের আমলারা জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জল প্যাকেট বন্দি করে বিক্রি করা হচ্ছে। আদৌ সেই জল কতটা পানযোগ্য কি না, সুইডের অনুমতি রয়েছে কি না তা দেখার কেউ নেই।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ