Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৈঠকে চা-টিফিনের খরচ কত হবে, আগাম পাঠাতে হবে অর্থদপ্তরে, বিতর্ক

বৈঠক বা কোনও কর্মসূচির জন্য চা কিংবা টিফিনের খরচ কত হবে, তা আগাম জানাতে হবে অর্থদপ্তরে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বৈঠকে চা-টিফিনের খরচ কত হবে, আগাম পাঠাতে হবে অর্থদপ্তরে, বিতর্ক
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বৈঠক বা কোনও কর্মসূচির জন্য চা কিংবা টিফিনের খরচ কত হবে, তা আগাম জানাতে হবে অর্থদপ্তরে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ২ ডিসেম্বর নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘কনটেনজেন্সি’ খরচের আগে লিখিতভাবে বিস্তারিত জানাতে হবে। অর্থদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর খরচ করা যাবে। কোন কোন খাতে খরচ হয়েছে, তার বিলও জমা করতে হবে। অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের দাবি, কনটেনজেন্সি ফান্ড থেকে বৈঠকের চা ও টিফিনের টাকা পাওয়া যায়। বৈঠকের আগে চা, টিফিনের জন্য কত খরচ হবে, তা আগাম বলা সম্ভব হবে না। এই ফান্ডে অল্পকিছু টাকা বরাদ্দ করা হয়।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভাগীয় প্রধানদের মাসে ছ’হাজার টাকা কনটেনজেন্সি খাতে খরচ করার ক্ষমতা রয়েছে। মিটিংয়ের চা, টিফিন ছাড়াও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন কাজে এই টাকা খরচ করা হয়। দীর্ঘদিন ধ঩রেই এই নিয়ম চালু রয়েছে। এতদিন খরচ করার পর বিভাগীয় প্রধানরা হিসেব দিতেন। এবার থেকে খরচের আগেই তাঁদের অনুমোদন নিতে হবে। এই নির্দেশ বাতিলের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ অর্থ দপ্তরে স্মারকলিপি জমা করেছে। অধ্যাপক ভাস্কর গোস্বামী বলেন, আগে থেকে খরচের হিসেব দেওয়া সম্ভব নয়। ধরা যাক, কোনও বিভাগে মাছ নিয়ে প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করান হচ্ছে। মাছের জন্য কত খরচ হবে, সেটা কীভাবে আগাম জানান যাবে? বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক করতে হয়। বৈঠকে চা, টিফিন বরাবরই দেওয়া হয়। সেটার জন্য কত খরচ হবে, তা আগে আন্দাজ করা গেলেও সঠিকভাবে বলা যায় না। আর এক অধ্যাপক অবশ্য বলছেন, অনেক সময় হঠাৎ করেই বৈঠক ডাকতে হয়। তখন বিভাগীয় প্রধানদের নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হবে। বিল অনুমোদন হওয়ার পর তাঁরা টাকা পাবেন। কোনও কারণে অনুমোদন না হলে বিল পাবেন না। এক আধিকারিক বলেন, স্বচ্ছতা আনার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কর্মসূচি আগে থেকেই ঠিক হয়। তার জন্য কেমন খরচ হতে পারে সেটা আন্দাজ করা যায়। খরচের পর বিল জমা দিলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চয় দিয়ে দেবে। অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের কাছ থেকে স্মারকলিপি পাওয়ার পর অর্থদপ্তর বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিসি শঙ্করকুমার নাথের ফোন ‘ফরওয়ার্ড’ থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একাধিক নয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তা নিয়ে তদন্ত চলছে। অর্থ দপ্তরের এক কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন আর্থিক বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ