Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পিসতুতো দাদাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ফাঁসির সাজা

ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিসতুতো দাদাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত।

পিসতুতো দাদাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ফাঁসির সাজা
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিসতুতো দাদাকে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা শোনাল আদালত। শনিবার ওই সাজার নির্দেশ দেন জলপাইগুড়ি জেলা অতিরিক্ত আদালতের তৃতীয় কোর্টের বিচারক বিপ্লব রায়। সাজাপ্রাপ্তর নাম সুরেশ রায় (২৬)। ২০২১সালের ৪মার্চ ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি জেলার ভক্তিনগর থানার মধ্য শান্তিনগর ডাবগ্রাম নতুন ব্রিজ এলাকায়। অভিযুক্ত তারই পিসতুতো দাদা শঙ্কর দাসকে(২৮) সাতসকালে রাস্তার মাঝে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।

Advertisement

পুলিস ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সুরেশ এলাকার এক তরুণীকে পছন্দ করত। রাস্তায় মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করত সে। কিন্তু ওই তরুণীর পরিবার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। তারা সুরেশের পিসতুতো দাদা পেশায় রাজমিস্ত্রি শঙ্করকে জানায়। সুরেশকে শাসন করতে বলে। এরপরই সুরেশকে ডেকে ওই তরুণীকে বিরক্ত না করার জন্য বলেন শঙ্কর। এতে ক্ষোভ তৈরি হয় সুরেশের মনে। এরই মধ্যে ওই তরুণীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সুরেশের যাবতীয় রাগ গিয়ে পড়ে তার পিসতুতো দাদা শঙ্করের উপর। তারই জেরে সে ওই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটায়। 
মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী শুভঙ্কর চন্দ বলেন, নিহতের শরীরে মোট আঠারো জায়গায় ধারালো ছুরি দিয়ে কোপানোর চিহ্ন পাওয়া যায়। যেভাবে ওই খুনের ঘটনাটি ঘটানো হয়, আদালত সেটিকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে চিহ্নিত করেছে। এই খুনের ঘটনায় দু’জন প্রত্যক্ষদর্শীও রয়েছেন। সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিস। মামলায় মোট ১২জন সাক্ষ্য দেন। অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক এদিন তাকে ফাঁসির সাজার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে খুশি নিহতের পরিবার।
প্ল্যাকার্ড হাতে আদালত চত্বরে হাজির হয়েছিলেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। নিহতের দাদা পেশায় রাজমিস্ত্রি তাপস দাস বলেন, আমরা আদালতের রায়ে খুশি। ভাইয়ের খুনের সঠিক বিচার পাব, আদালতের উপর এই আস্থা ছিল আমাদের। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন সকালে শঙ্কর রাস্তার ধারে দোকানে চা খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত। এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। এমনভাবে তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করা হয় যে, শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বেরিয়ে এসেছিল।
মামলা চলাকালীন অভিযুক্তের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যালএইড ডিফেন্স কাউন্সিলের ডেপুটি চিফ ভানুসিংহ সরকার। এদিন সাজা ঘোষণার পর তিনি বলেন, সুরেশ রায়ের হয়ে আমরা জেলা আদালতে সওয়াল করেছি। সেখানে আদালতের সামনে আমরা আমাদের বক্তব্য বলেছি। মামলায় সুরেশকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত তাকে ফাঁসির সাজার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের বিরোধিতা করে আমরা হাইকোর্টে যাব।  ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ