Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ওড়িশার সেই ছাত্রীর মৃত্যু, কাল ধর্মঘটের ডাক বিরোধী দলের

মৃত্যু হল ওড়িশার নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রীর। সোমবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।

ওড়িশার সেই ছাত্রীর মৃত্যু, কাল ধর্মঘটের ডাক বিরোধী দলের
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

ভুবনেশ্বর: মৃত্যু হল ওড়িশার নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রীর। সোমবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি মৃতের পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন। পড়ুয়ার মৃত্যুর পরই তোলপাড় ওড়িশা। বর্তমান বিজেপি সরকারকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেডি ও কংগ্রেস। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান বিজেপি সরকারের ব্যর্থতার জেরেই এই ঘটনা। এটি আত্মহত্যা নয় খুন। ঘটনার প্রতিবাদে আগামী কাল, ১৭ জুলাই রাজ্যজুড়ে বন্‌ধ ডেকেছে বিরোধী দলগুলি। 

Advertisement

অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও লাগাতার মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত শনিবার কলেজেই গায়ে আগুন দেন নির্যাতিতা। পুড়ে গিয়েছিল দেহের ৯৫ শতাংশ। ভুবনেশ্বর এইমসে চলছিল লড়াই। মঙ্গলবার গ্রামেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। উপস্থিত ছিলেন বালেশ্বরের সাংসদ প্রতাপ ষড়ঙ্গী সহ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। ঘটনস্থল থেকেই দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান মৃত ছাত্রীর গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, ‘ওকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।’ কাঁদতে কাঁদতে সন্তানহারা বাবার বক্তব্য, আমার মেয়ে লড়তে শিখিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমি লড়ে যাব। ক্ষতিপূরণ চাই না। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। সরকার কি আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? 
গত কয়েকমাসে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে ওড়িশার বিজেপি সরকার। এবার ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ জুলাই ওড়িশা বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। দলের রাজ্য সভাপতি ভক্তচরণ দাস বলেন,‘ ও নিজের গায়ে আগুন দিল। বাকিরা নীরব হয়ে দেখল। কেউ কোনও ব্যবস্থা নিল না। বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজের ঘটনা বুঝিয়ে দিল, বর্তমান বিজেপি সরকার মহিলাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। আগামী ১৭ তারিখ রাজ্যজুড়ে বনধ ডাকা হয়েছে।’ সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর কথায়, ‘বিচারের জন্য লড়াই করে যাওয়া ওড়িশার মেয়ের এই মৃত্যু খুনের থেকে কম কিছু নয়। আসলে ও সিস্টেমের বলি। যার নেপথ্যে রয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। ওই সাহসী পড়ুয়া যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল। কিন্তু ন্যায়বিচারের বদলে পেয়েছে শুধুই অপমান আর হুমকি। যাদের রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই ওকে তিলে তিলে শেষ করেছে। মণিপুর হোক ওড়িশা। দেশের মেয়েরা জ্বলছে, শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর আপনি এখনও চুপ করে রয়েছেন মোদিজি। গোটা দেশ আপনার জবাব চায়।’ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়েক। তিনি জানান, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়। বর্তমানে সরকারের ব্যর্থতার জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিজেডির দাবি, অবিলম্বে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে ওড়িশার বর্তমান সরকারকে। একইসঙ্গে ছাত্রীর মৃত্যুতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হোক। যদিও বিজেপির কথায়, বিষয়টিকে ইস্যু করে রাজনীতির খেলায় নেমে পড়েছে বিরোধীরা। ঘটনায় অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহু  ও কলেজের অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একটি এসটিআই (সুইফ্ট ট্রায়াল ইনিশিয়েটিভ) টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।

সম্পর্কিত সংবাদ