ভুবনেশ্বর: আশঙ্কাই সত্যি হল। বাঁচানো গেল না ওড়িশার নির্যাতিতা কলেজ ছাত্রীকে। যৌন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গত শনিবার দুপুরে কলেজেই গায়ে আগুন দেন তিনি। দেহের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ভুবনেশ্বর এইমসে রাখা হয়েছিল লাইফ সাপোর্টে। দিন তিনেকের মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের পরে হার মানলেন। সোমবার রাত ১২টা নাগাদ ওই ছাত্রী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়ের মন্তব্য, এটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং ‘পরিকল্পিত অবিচার’-এর একটি দৃষ্টান্ত। কাঠগড়ায় তুলেছেন রাজ্যের বিজেপি সরকারকে। সুবিচারের আশায় বিভিন্ন দরজায় কড়া নেড়েও যেভাবে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে নির্যাতিতাকে, তাও উল্লেখ করেছেন নবীন। গোটা ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন তিনি। এদিন হাসপাতালে যান উপ মুখ্যমন্ত্রী।
ওড়িশার বালাসোরের ফকির মোহন স্বশাসিত কলেজে বিএড করছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন কলেজের বিভাগীয় প্রধান। প্রস্তাবে রাজি না হলে দেওয়া হচ্ছিল কেরিয়ার নষ্ট করার হুমকিও। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পুলিসের কাছে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের সামনে গায়ে আগুন দেন তিনি। ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহুকে। সাসপেন্ড করা হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষকেও।