Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাদার অনুগামীরা ব্রাত্য আদিতে আস্থা শমীকের, জেলার কোণঠাসা নেতারাই বিধানসভার ইনচার্জ

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপিতে ১৮০ডিগ্রি অবস্থান বদল।

দাদার অনুগামীরা ব্রাত্য আদিতে আস্থা শমীকের, জেলার কোণঠাসা নেতারাই বিধানসভার ইনচার্জ
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপিতে ১৮০ডিগ্রি অবস্থান বদল। কয়েক মাস আগে সাংগঠনিক নির্বাচন পর্বে একচেটিয়া দলবদলু ও তৎকাল বিজেপি নেতাদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিস্তর ক্ষোভও তৈরি হয়। কিন্তু, ২৯অক্টোবর এই জেলায় দলের বিধানসভা ইনচার্জ নিয়োগে ঠিক তার উল্টোটাই ঘটল। নব্যদের দাপাদাপিতে কোণঠাসা ও গুরুত্ব খোয়ানো নেতাদের উপরই বিধানসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল। ব্রাত্য হ঩লেন দাদার অনুগামীরা। যা নিয়ে জেলায় হইচই শুরু হয়েছে। পোড়খাওয়া নেতাদেরই ২০২৬সালের বিধানসভা ভোটের কাণ্ডারী হিসেবে নিয়োগ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের প্রতিটি বিধানসভায় একজন করে ইনচার্জ নিয়োগ করেছেন। প্রায় সকলেই প্রাক্তন পদাধিকারী এবং আদি বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁদের কেউ কেউ নব্যদের উৎপাতে সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে বসেও গিয়েছিলেন।

Advertisement

নন্দকুমার বিধানসভার ইনচার্জ করা হয়েছে পাঁশকুড়ার পুরনো দিনের বিজেপি নেতা জগদীপ প্রামাণিককে। ২০২১-’২৩টার্মে তপন চট্টোপাধ্যায় জেলা সভাপতি থাকাকালীন তিনি জেলা পার্টির ট্রেজারার ছিলেন। তারপর পাঁশকুড়ার উঠতি নেতাদের দাপটে জগদীশবাবুরা একপ্রকার হারিয়ে গিয়েছিলেন। কোনও পদে ছিলেন না। আচমকাই তাঁকে নন্দকুমার বিধানসভার ইনচার্জ করা হয়েছে। একইভাবে হলদিয়া বিধানসভার ইনচার্জ হয়েছেন রামশঙ্কর প্রধান। তপনবাবু জেলা সভাপতি থাকাকালীন ভগবানপুরের ওই বিজেপি নেতা হলদিয়ার বিস্তারক ছিলেন। তারপর দলের মূল স্রোত থেকে অনেক দূরে ছিলেন। হলদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভায় তাঁর উপরই আস্থা রেখেছেন রাজ্য সভাপতি।
নন্দীগ্রাম বিধানসভার ইনচার্জ করা হয়েছে মানস রায়কে। ২০১৭-১৯ সময়কালে তিনি জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে গুরুত্ব কমিয়ে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য করে রাখা হয়েছিল। সেই মানসবাবু নন্দীগ্রামের মতো নজরকাড়া বিধানসভার ইনচার্জ। ২০১৭-’১৮ সালে মাত্র ছ’মাসের জন্য ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি হয়েছিলেন ডেবরার রতন দত্ত। তারপর সামনের সারিতে বিশেষ দেখা যেত না। রতনবাবু এখন ময়না বিধানসভার ইনচার্জ। কিষান মোর্চার প্রাক্তন সহ সভাপতি তপন দাস তমলুক বিধানসভার ইনচার্জ। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের নেতা পীযূষ বারিক দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করছেন। ২০১৭ সালে দলের জেলা সহ সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে দু’টি টার্মে জেলা সম্পাদক হন। শেষমেশ এবার গুরুত্ব কমিয়ে জেলা কমিটির সদস্য করা হয়েছিল। কোণঠাসা ওই নেতাকে কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভার ইনচার্জ করা হয়েছে।
তমলুক ও কাঁথি দুই জেলা কমিটির পাশাপাশি মণ্ডল কমিটিতে দলবদলু ও তৎকাল বিজেপি নেতারা গুরুত্ব পেয়েছেন। তানিয়ে দলের ভিতর ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছিল। এনিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছেও নালিশ পৌঁছেছিল। ২০২৬সালের ভোটের আগে পুরনো নেতাদের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় দলের ভিতর আলোড়ন চলছে। এব্যাপারে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরনো দিনের কার্যকর্তাদের বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়ায় ভালো লাগছে। দুঃসময়ে তাঁরা‌ই এই জেলায় দলের ঝান্ডা ধরে লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তবে, প্রাক্তন জেলা সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মাইতির মতো কিছু পুরনো নেতা এখনও ব্রাত্য রয়েছেন।
জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহা বলেন, এক সাংগঠনিক জেলার নেতাকে আর এক সাংগঠনিক জেলার বিধানসভায় ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এটা রাজ্য থেকেই করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ