সংবাদদাতা, বোলপুর: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে মে মাসেই বোলপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান সেন্টার শুরু হতে চলেছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে এই পরিষেবা চালু করা হবে। মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান না হওয়ায় চিকিৎসায় সমস্যা হচ্ছিল। নতুন এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে বোলপুর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু রোগী ও তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হওয়ার খবর জানাজানি হতেই খুশির হাওয়া বোলপুর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল সূত্র জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে এবং অন্যান্য উন্নতমানের এক্স-রে ব্যবস্থা থাকলেও সিটি স্ক্যানের সুবিধা এতদিন ছিল না। এরফলে স্থানীয় এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী এবং অন্যান্য রোগীদের সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হলে বাইরে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে তা করাতে হতো। অনেক সময় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসা রোগীদের সিটি স্ক্যানের জরুরি প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে সেই ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাইরে থেকে করাতে হতো। আগে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে যা জীবনহানির কারণও হয়েছে। এতদিন এই পরিষেবা না পাওয়ায় বহু রোগী হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। রোগীদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে ২০১৮সালে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পিপিপি মডেলে সিটি স্ক্যান সেন্টার চালুর প্রস্তাব স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হয়। তবে বিভিন্ন কারণে সেই কাজ আটকে যায়। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালে ফের নতুন করে সিটি স্ক্যান সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা সিটি স্ক্যান সেন্টার স্থাপনের জন্য হাসপাতালের ক্যাম্পাস বেশ কয়েকবার পরিদর্শনও করেন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এই সেন্টারটি তৈরি করা হবে। সেই অনুযায়ী, উন্নত প্রযুক্তির সিটি স্ক্যান মেশিন এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসানোর কাজ হয়েছে। তবে মাঝপথে অর্থ বরাদ্দ না হওয়া সহ অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতায় কাজটি কিছুদিনের জন্য থমকে ছিল। পরবর্তীতে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানো হয়। অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পর সিটি স্ক্যান সেন্টারটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হয়েছে।
হাসপাতাল সুপার দিবাকর সর্দার বলেন, বহু রোগী ও পরিবার এই মহকুমা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। তাই এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিটি স্ক্যান সেন্টারের খুবই প্রয়োজন ছিল। সিটি স্ক্যান সেন্টারটি এখন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আশা করা যাচ্ছে মে মাসের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে। এই পরিষেবা শুরু হলে এলাকার অসংখ্য রোগী উপকৃত হবেন।