নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: পানীয় জলের জন্য ভরসা ছিল দুটো পাতকুয়ো। গরম পড়লে কুয়োর জলস্তর নীচে নেমে যায়। বর্ষায় জল ঘোলাটে হয়ে পড়ে। লালগড় গ্ৰাম পঞ্চায়েতের দোলকুন্ডা গ্ৰামের ১৫০ বাসিন্দাকে সেই অস্বাস্থ্যকর জলই পান করতে হয়। টহল দেওয়ার সময়ে বিষয়টি নজরে আসে সিআরপিএফের ২৩২ মহিলা ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের। তাঁরাই উদ্যোগ নেন সমস্যা মেটানোর। বুধবার সিভিক অ্যাকশন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্ৰামে ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বসানো হয় সাব মার্সিবল পাম্প। পানীয় জলের সুরাহা হওয়ায় এদিন গ্ৰামজুড়ে উৎসব আবহ তৈরি হয়। মহিলা সিআরপিএফ ২৩২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার সীমা তলিয়া পাম্পের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে লালগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুনীল মুর্মু, ধানশোলা সংসদের পঞ্চায়েত সদস্য সিদাম সোরেন ও কার্তিক মাহাত সহ সিআরপিএফের অন্যান্য অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
লালগড় গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্ৰাম দোলকুন্ডা। ৩৫টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। গ্ৰামে তিনটে পাতকুয়ো আছে। তার মধ্যে একটির জল খাওয়া যায় না। অন্য দুটো কুয়োর জল খাওয়া ও রান্নার জন্য ব্যবহার করা হয়। অস্বাস্থ্যকর সেই জল খেয়ে গ্ৰামের বাসিন্দারা পেটের সমস্যায় ভোগেন। টিউবওয়েল বসানো হলেও সেখান থেকে জল পড়ে না। জলের পাইপ লাইন বসেছে। কিন্তু সেখানে জল আসে না। পাশের ভাঙাডালী গ্ৰামে সাব মার্সিবল বসানো হয়েছে। হাফ মাইল পথ অতিক্রম করে মহিলারা সেখান থেকে জল বয়ে আনেন। চড়া রোদে সবসময়ে জল আনা সম্ভব হয় না। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতকে সাব মার্সিবল বসানোর জন্য বহুবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই হয়নি। সিআরপিএফের মহিলা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মাসখানেক আগে গ্ৰামে টহল দিতে এসেছিলেন। তখনই গ্ৰামবাসীদের জলের সমস্যা তাঁদের নজরে আসে। এরপরেই সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী মান্ডি বলেন, গ্রামে তিনটে পাতকুয়ো রয়েছে। তারমধ্যে দু’টো পাতকুয়োর জল ব্যবহার করা যায়। গ্রীষ্মকালে জল শুকিয়ে যায়। বর্ষাকালে কুয়োর জল ঘোলা হয়ে যায়। হাফ মাইল দূরে ভাঙাডালি গ্ৰাম থেকে আমাদের জল বয়ে আনতে হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর দিদিরা এদিন গ্ৰামে সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে দিয়েছে। অপর বাসিন্দা ইশ্বর হেমব্রম বলেন, কুয়োর অস্বাস্থ্যকর জলই খেতে হতো। ফলে সারাবছর পেটের নানা সমস্যা লেগেই থাকত। পাশের গ্ৰাম থেকে মেয়েদের জল বয়ে নিয়ে আসতে হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েতকে সাব মার্সিবল বসানোর জন্য বহুবার বলা হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি। মহিলা ব্যাটালিয়নের অফিসাররা গ্ৰামে টহল দিতে এসে আমাদের দূরবস্থার কথা জানতে পারেন। তাদের উদ্যোগে এতদিনের সমস্যা মিটল। লালগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুনীল মুর্মু বলেন, দোলকুন্ডা গ্রামে জলের সমস্যা ছিল। পাথুরে এলাকা হওয়ায় এখানে টিউবওয়েল থেকে জল বের হয় না। পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহেরও সমস্যা রয়েছে। পঞ্চায়েতের তরফে পানীয় জলের পাম্প বসানোর ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছিল। সিআরপিএফ পানীয় জলের পাম্প গ্ৰামে বসিয়েছে। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ব্যাটেলিয়নের কমান্ডিং অফিসার সীমা তলিয়া বলেন, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মানুষের সমস্যা দূরীকরণেও আমাদের নজর রয়েছে। এলাকা টহল দেবার সময় আমাদের মহিলা জওয়ানরা লক্ষ্য করেছিলেন, গ্রামে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে আলোচনা করে লালগড়ের দোলকুন্ডা ও ঝাড়গ্রাম ব্লকের পিন্দ্রা গ্ৰামে এদিন সাবমার্সিবল পাম্প চালু করা হয়েছে। গ্ৰামবাসীরা এতে উপকৃত হবেন। -নিজস্ব চিত্র