সুজয় মণ্ডল, স্বরূপনগর: সীমান্তবর্তী বসিরহাটে আজ একপ্রকার উৎসবের আবহ তৈরি হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভাকে ঘিরে। শুক্রবার তেঁতুলিয়া হাইস্কুল মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বীণা মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি সভায় জনসমুদ্রের ছবি ধরা পড়ে। বিশেষ করে মহিলা সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি সভাকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। পরিবর্তনের পর থেকেই এই আসন ধারাবাহিকভাবে তৃণমূলের দখলে রয়েছে আর এদিন সেই ধারাবাহিকতারই যেন এক জোরালো প্রদর্শন দেখা গেল। মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার মাঠে অবতরণ করতেই গোটা এলাকা জুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শঙ্খধ্বনি, জয়ধ্বনি আর উচ্ছ্বসিত স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সভাস্থল। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে মোড়া ছিল গোটা ময়দান। তবুও জনতার ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো।
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআরের মাধ্যমে চক্রান্ত করে প্রায় ৯০ লক্ষ বাঙালি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু ও ৩০ লক্ষ মুসলমান। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ মাছ চাষ হয়। আমাদের প্রয়োজন মিটিয়ে তা বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। অথচ বাঙালির কাছ থেকে মাছ-মাংস কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
এদিন তিনি বসিরহাটকে নতুন জেলা হিসেবে ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজ্যের বাইরে কর্মসূত্রে যাওয়া বাঙালিদের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা বলার অপরাধে অনেককে পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, এমনকি কখনো কখনো ‘বাংলাদেশি’ দেগে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এর জবাব মানুষ সময়মতোই দেবে।
এদিন সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী ঋতুপর্ণা আঢ্য। বয়সে নবীন হলেও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা-মা দুজনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমি সেকেন্ড জেনারেশন হিসাবে আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই। আপনাদের আশীর্বাদ চাই, যাতে সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে পারি। সভার শেষদিকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা মহিলারা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশসহ বলেন, আপনার এই প্রকল্পের সাহায্যে আমরা সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারছি। তাই চতুর্থবারের জন্য আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী চাই। সব মিলিয়ে, এদিনের জনসভা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, একপ্রকার জনজোয়ার ও আবেগের মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল বসিরহাটে।