নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমকে করিডর করে ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলাদেশে গোরু পাচারের চেষ্টা! গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা অভিযানে নামেন। সাঁইথিয়ার ইউনিয়ন মোড় এলাকায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা নির্দিষ্ট ট্রাকটি দেখতে পান। কিন্তু ট্রাক চালক পুলিসের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি রুট বদলে নেয়। ঝড়ের গতিতে সিউড়ির পথে ছুটতে থাকে ট্রাকটি। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা দ্রুত ওই ট্রাকের পিছু নেন। প্রায় ৬ কিলোমিটার ধাওয়া করে সিউড়ির ইটাগড়িয়া এলাকায় গোরুবোঝাই ট্রাকটি পাকড়াও করা হয়। গাড়ির চালক সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে ধৃতরা হল, মহম্মদ আসলাম, মহম্মদ ইন্তেসার ও গুফরান। সকলেই বিহারের বাসিন্দা। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে ধৃতদের সিউড়ি থানার পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ডিএসপি স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাফল্য মিলেছে। তবে, ট্রাক চালক পালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘ পথ ধাওয়া করে গোরুবোঝাই ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ট্রাকটির ভেতরে কাঠের পাটাতন বসিয়ে দু’টো ভাগ করা হয়েছিল। দুই ভাগে মোট ৩৭টি গোরু তাতে তোলা হয়েছিল। পুলিস ও এনফোর্সমেন্টের ব্রাঞ্চের নজর এড়াতে প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, বীরভূম সহ মুর্শিদাবাদ জেলা হয়ে বাংলাদেশে ওই গোরুগুলি পাচার করা। ধৃতরা ক্যারিয়ারের কাজ করছিল। তারা বাজেয়াপ্ত করা গোরুগুলির বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ধৃতরা জেরায় স্বীকার করেছে, গোরুগুলি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের সাংরা এলাকা থেকে ট্রাকে তোলা হয়েছিল। বিগত কয়েকদিন যাবত সপ্তাহে দু’-তিনদিন এভাবেই পুলিস ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের চোখে ধুলো দিয়ে তারা পাচারের কাজ করে চলছিল। এই পাচারের ঘটনায় আর কে বা কারা জড়িত এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বীরভূমকে করিডর করে গোরু পাচারের চেষ্টা হয়েছে। গত মাসেই এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ পুরন্দরপুরে অভিযান চালিয়ে ২৪টি গোরু উদ্ধার করেছিল। চলতি মাসের শুরুর দিকে হাতিমডাঙা এলাকায় অভিযানে প্রায় ১৭টি গোরু উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।