Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিডিএর চেয়ারপার্সন সহ ১৩ দোষীর বক্তব্য শুনল আদালত

আদালতের নির্দেশমতো এদিন চেয়ারপার্সন ছাড়া বাকি ১২জনকে বিচারকের সামনে সশরীরে হাজির করানো হয়

বিডিএর চেয়ারপার্সন সহ ১৩ দোষীর বক্তব্য শুনল আদালত
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: খুনের চেষ্টার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন কাকলি গুপ্ত সহ ১৩জনের সাজা ঘোষণা বুধবারও হল না। সোমবার তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সন সহ চারজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সাজা ঘোষণা পিছিয়ে যায়। দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১৩জনকে এদিন আদালতে পেশ করার জন্য নির্দেশ দেন বিচারক। কাউকে হাজির না করা গেলে ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থায় সাজার বিষয়ে তার বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করার জন্য বর্ধমান সংশোধনাগারের সুপার ও জেলার পুলিস সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন বিচারক। আদালতের নির্দেশমতো এদিন চেয়ারপার্সন ছাড়া বাকি ১২জনকে বিচারকের সামনে সশরীরে হাজির করানো হয়। অনাময় হাসপাতালে চেয়ারপার্সনের বক্তব্য শোনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন কাকলি গুপ্তকে সর্বোচ্চ সাজার বিষয়ে অবহিত করে এব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানতে চান দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র। চেয়ারপার্সন বলেন, আমি নির্দোষ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। জীবনে কারও ক্ষতি করিনি। ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে। ৩১টি রেডিয়েশন নেওয়া হয়েছে। মায়ের বয়স ৮০। তিনি আমার কাছে থাকেন। তিনি মৃত্যুশয্যায় আছেন। আমার হার্টেরও সমস্যা রয়েছে। আমাকে সুস্থভাবে জীবনযাপনের সুযোগ করে দিন। আমি সমাজসেবী। গরিব মানুষের সেবা করি। তার এই বয়ান নথিভুক্ত করেন বিচারক। একইভাবে বাকি ১২জনকেও সর্বোচ্চ সাজার বিষয়ে জানিয়ে তাঁদের বক্তব্য শুনে তা নথিভুক্ত করেন বিচারক। তার আগেই অবশ্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া ১৩জনের আইনজীবীরা সর্বনিম্ন সাজার পক্ষে সওয়াল করেন। এক্ষেত্রে কেন সের্বাচ্চ সাজা না দিয়ে সর্বনিম্ন সাজা দেওয়া উচিত তার ব্যাখ্যা করেন আইনজীবীরা। সর্বনিম্ন সাজার ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য লিখিত আকারে পেশ করার জন্য আই঩নজীবীদের বলেন বিচারক। সিআরপিসির ৩৬০ ধারায় চেয়ারপার্সনকে জেলে না পাঠিয়ে প্রবেশনে রাখার জন্য আবেদন জানান তাঁর আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস। আরও কয়েকজনেরও একই ধারায় আবেদন করা হবে বলে জানান আইনজীবী উদয়শঙ্কর কোনার। বৃহস্পতিবার আবেদন পেশ করার জন্য নির্দেশ দেন বিচারক। সব বক্তব্য শোনার পর সাজা ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা আদৌ হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, এদিন বর্ধমান আদালতের প্রবীণ আইনজীবী গোলকবিহারী ঘোষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কারণে আদালতের কাজকর্ম না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

Advertisement

গত দু’দিনের মতো এদিনও আদালত চত্বরে শাসক দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা প্রচুর সংখ্যায় জড়ো হন। নামানো হয় র‌্যাফও। দোষীদের আইনজীবী কমল দত্ত রায়ে সরকার পক্ষ এবং পুলিসের ভূমিকা নিয়ে বিচারকের তোলা প্রশ্ন উল্লেখ করে ন্যূনতম সাজার পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, রায়ে বিচারক নিজেই ইনজ্যুরি রিপোর্ট সহ তদন্তের গাফিলতি নিয়ে পুলিসের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। অর্থাৎ সরকার পক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তা সত্ত্বেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে রায় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সেকারণে সর্বনিম্ন সাজাই এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ