Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিটিং বয়কট করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা কাউন্সিলারদের

বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যানের ডাকা বোর্ড মিটিং বয়কট করাকে ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে।

মিটিং বয়কট করে চেয়ারম্যানের  বিরুদ্ধে অনাস্থা কাউন্সিলারদের
  • ১ জুন, ২০২৫ ১০:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যানের ডাকা বোর্ড মিটিং বয়কট করাকে ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিরোধীরা তো বটেই, খোদ শাসকদলের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলার পুরসভার বৈঠক এড়িয়ে চেয়ারম্যানের কাজের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করলেন। তৃণমূল পরিচালিত বেলডাঙা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলীয় কাউন্সিলাররা উপস্থিত না হওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। এদিকে কাউন্সিলারদের বড় অংশের অভিযোগ, পুরসভায় জনপ্রতিনিধিরা একেবারে সম্মান পাচ্ছেন না। তাই বোর্ড মিটিং বয়কট করা হয়েছে। এই নিয়ে অবশ্য পুরসভার চেয়ারম্যান অনুরাধা হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগেই বোর্ড মিটিং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী ১০ জুন পরবর্তী সভা হিসেবে দিন স্থির করা হয়েছে। সেই বৈঠকেও গরহাজির থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের কাউন্সিলাররা। 

Advertisement

শুক্রবার বিকালে ‘বোর্ড অব কাউন্সিলার্স’-র সাধারণ সভার ডাক দিয়েছিলেন বেলডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান। অনিবার্য কারণবশত সেই সভার সময় এগিয়ে আনা হয় এবং সকাল সাড়ে দশটায় কাউন্সিলারদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে দুই তৃণমূল কাউন্সিলার ছাড়া মিটিংয়ে অনুপস্থিত ছিলেন সকলেই। সুতরাং ওই সভা বাতিল হয়ে যায়। যদিও চেয়ারম্যানের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি নিজেই মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। তাই বোর্ড মিটিং পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে অহেতুক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।  
পুরসভার মোট ১৪ জন কাউন্সিলারের মধ্যে বিজেপি ও নির্দলের সংখ্যা মাত্র পাঁচ জন। বাকি নয়জন কাউন্সিলার তৃণমূলের। ওইদিনের বৈঠকে তৃণমূলের সাতজন কাউন্সিলার উপস্থিত হননি বলেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়। শাসকদলের অধিকাংশ কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এই ক্ষোভের কথা দলকেও জানিয়েছেন খোদ চেয়ারম্যান। 
এ বিষয়ে পুরসভার এক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কাউন্সিলার বলেন, কাউন্সিলারদের মানুষ বলেই মনে করেন না চেয়ারম্যান। কাউকে যথাযোগ্য সম্মান দেন না। দলের সদস্য হয়ে যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বিরোধীদের অবস্থা ভাবুন। তাঁর আরও অভিযোগ, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং তাঁর আশপাশের লোকজন গত তিন বছর ধরে পুরসভায় রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি এলাকার তৃণমূল নেতাদের জানিয়েও কিছু লাভ হয়নি। তাই সভা বয়কট করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান বোর্ডের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছেন অনেক কাউন্সিলার। 
যদিও পুরসভার তৃণমূলের দুই কাউন্সিলার বলেন, ওইদিন বোর্ড মিটিংয়ের সময় হঠাৎ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। ফলে ব্যক্তিগত কাজ থাকার কারণে আমি ওই সভায় সকালে উপস্থিত হতে পারিনি। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান কখনই যে কারও মতামত নেন না, এটা ঠিক। তাই আগামী দিনে পুরসভার মাসিক বোর্ড অব কাউন্সিলার্সের সাধারণ সভায় যাব কি না, ঠিক নেই। 
পুরসভার বিজেপির এক কাউন্সিলার বলেন, পুরসভায় বিরোধী দলের সদস্যদের কোনও মর্যাদাই নেই। তাছাড়া যে সভায় তৃণমূলের কাউন্সিলাররাই উপস্থিত হন না, সেখানে বিরোধী দলের কাউন্সিলারদের উপস্থিতি কীভাবে আশা করেন চেয়ারম্যান। উনি একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন। 
তবে চেয়ারম্যান এসব অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘আসলে আমি কোনও অনৈতিক কাজ সমর্থন করি না বলেই অনেকের রাগ আছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ