সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাটের ডিপোর পুরনো, বেহাল বিল্ডিংগুলি সংস্কার করে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নিতে চলেছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)। সেই সঙ্গে বালুরঘাট ডিপোতে আবাসন তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে এনবিএসটিসি। যেখানে কর্মীরা থাকতে পারবেন। দূরদূরান্ত থেকে কর্মীরা এসে রাত্রিযাপন করতে পারবেন বাস ডিপোতে।
মঙ্গলবার বালুরঘাট বাস ডিপো পরিদর্শনে এসে নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই একথা জানান। সূত্রের খবর, যাত্রীর অভাবে বালুরঘাট-দীঘা রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভলভো বাস পুনরায় চালু করা যায় কি না, সেসব সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর।
দীর্ঘদিন ধরে বালুরঘাট থেকে দূরপাল্লার অনেক রুটে বাস নেই। শিলিগুড়ি এবং কোচবিহার রুটেও সরকারি বাস নেই বালুরঘাট থেকে। জেলাবাসী এই রুটে সরকারি বাস চালুর দাবি জানালেও কর্মী সংকটের কারণে এখনই তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। নিগমের কর্তাদের কথায় তা স্পষ্ট হয়েছে।
তবে বালুরঘাট ডিপো পরিদর্শনের পর নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, এখানে কী ধরনের কাজ করা যায়, তা দেখা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে আমরা মেসের মতো আবাসন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। যাতে দূর থেকে কর্মীরা এসে থাকতে পারেন। ভবন সংস্কারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্য থেকে ফান্ড এলে সেই কাজগুলি হবে। যেসমস্ত রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে, সেই বিষয়গুলিও দেখছেন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। নতুন বাস প্রসঙ্গে দীপঙ্কর বলেন, এখানে সিএনজির বাস চালানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। নতুন সিএনজির স্টেশন হলেই আমরা বাস চালু করব।
নতুন বাস কেন চালু করা যাচ্ছে না? দীপঙ্করের কথায়, উত্তরবঙ্গজুড়ে বাসচালক ও কন্ডাক্টরের সংকট রয়েছে। ফলে নতুন বাস বেশি করে চালানো যাচ্ছে না। তবে এখানে আরও বাস দেওয়ার চেষ্টা করব।
বালুরঘাট ডিপো থেকে মূলত মালদহ, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, কলকাতা সহ বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩৮টি বাস চলাচল করে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না থাকায় মানুষ সরকারি বাসের উপরেই ভরসা করেন। বাসে যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকলেও অনেক রুটে পরিষেবা নেই বলে অভিযোগ। বালুরঘাটের বাসিন্দা সমীর রায় বলেন, বালুরঘাট থেকে আরও বাস প্রয়োজন। বালুরঘাট থেকে আসানসোল রুটের বাস বন্ধ। বালুরঘাট-শিলিগুড়ি রুটেও রাতে বাস নেই। বালুরঘাট-দীঘা রুটে ভলভো বাস চালু হয়েও বন্ধ মাস খানেক ধরে। তবে ডিপো সূত্রে খবর, যাত্রীর অভাবেই বন্ধ রয়েছে। যাত্রী হলেই বাস চলবে।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর বালুরঘাট ডিপোর পাশাপাশি বাস টার্মিনাসও ঘুরে দেখেন। কর্মীদের নিয়ে বৈঠকও করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন ডিপো ইনচার্জ অশোক চক্রবর্তী।