নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাস্তার ধারে ছোট দোকানেই মজুত রয়েছে বিপুল সংখ্যক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার। কোনও আড়াল নয়, প্রকাশ্যে খুল্লামখুল্লা, মাতৃযান থেকে পুলকারে ভরা হচ্ছে রান্নার গ্যাস। আর তাতেই বাড়ছে বিপদ। ছবিটা মেদিনীপুর শহরের। এই ঘটনায় বিপদের আশঙ্কা থাকায় মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালায় পুরসভা। মেদিনীপুর পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, শহরের ২১, ২২ ওয়ার্ড ছাড়াও বেশকিছু এলাকায় বেআইনিভাবে রান্নার গ্যাস গাড়িতে ভরা হয়। তবে শুধুমাত্র পুরসভা এলাকায় নয়, জেলার নানা প্রান্তে এই ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চলার সময় এই অবৈধ ব্যবসা আর করবে না বলে কয়েকজন কারবারি মুচলেকা দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, যেসব গাড়ি গ্যাসে চলে তাতে সিএনজি গ্যাস ভরার কথা। এটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি। যা মূলত মিথেন গ্যাসকে প্রচণ্ড চাপে সংকুচিত করে তৈরি করা হয়। এটি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি রূপ যা যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সিএনজি-র দাম প্রতি কেজিতে ৭৭ থেকে ৯৬ টাকা মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, শহরের বুকে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। গাড়িতে রান্নার গ্যাস ভরার খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর থেকে নিয়মিত অভিযান চালাবে পুরসভা। কারণ, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট করে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। নিয়ম না মানলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিন মেদিনীপুর শহরের একটি গাড়ির চালক বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে গাড়িতে সিএনজি গ্যাস ব্যবহার করার কথা থাকলেও ওই গ্যাস পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে রান্নার গ্যাস ভরেই গাড়ি চালাতে হয়। গ্যাসে গাড়ি চালালে পেট্রলের চেয়ে খরচ কম হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, মেদিনীপুর পুরসভা এলাকায় আড়াই থেকে তিন হাজার গাড়ি চলাচল করে। তারমধ্যে প্রায় এক হাজার গাড়ি গ্যাসে চলে। অনেকেই পেট্রল গাড়ি গ্যাসের গাড়িতে রূপান্তিরত করেছে। কারণ, গ্যাসে গাড়ি চালালে মাইলেজ বেশি পাওয়া যায়। মেদিনীপুর শহরের এক বেসরকারি স্কুলের অভিভাবক প্রশান্ত দাস বলেন, স্কুলগুলির বেশিরভাগ গাড়ি গ্যাসে চলে। যা খুবই বিপজ্জনক। মেদিনীপুর পুরসভার পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।