নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের সাক্ষ্য পর্বে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডি’র দায়ের করার মামলায় দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এক বেসরকারি সংস্থার ‘কর্তা’কে তলব করে জানা গেল, কাগুজে ওই সংস্থার রাঁধুনি তথা মালিকেই ডিরেক্টর সাজানো হয়েছিল। শুধুমাত্র খাতায়-কলমে রাঁধুনি তথা মালিকে ডিরেক্টর সাজিয়ে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ‘অন্যত্র সরানোই’ ছিল কাগুজে সংস্থার মূল লক্ষ্য। মঙ্গলবার কলকাতার বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতের বিচারক শুভেন্দু সাহার রুদ্ধদ্বার এজলাসে সাক্ষ্য দিতে এসে সংস্থার ওই ‘কর্তা’ জানিয়ে যান, ‘আমি কোনও কোম্পানির ডিরেক্টর নই। রান্নাবান্না ও বাগানের মালির কাজ করি।’ তাঁর কথায়, ‘আমাকে দিয়ে কিছু কাগজপত্রে সইসাবুদ করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কাগজপত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’
খোদ এজলাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাক্ষীর মুখ থেকে ওই কথা শুনে এদিন আদালতজুড়ে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়। আদালতে ইডির অভিযোগ ছিল, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একাধিক অভিযুক্ত সংস্থার হদিশ মিলেছিল। যাদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তেমনই একটি সংস্থার নথিপত্র তদন্ত করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যায়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত সংস্থাটি কাগজ‑কলমে যাকে সংস্থার ডিরেক্টর সাজিয়ে ছিল, আসলে তিনি হলেন সেই সংস্থার সাধারণ একজন কর্মী মাত্র। রান্না আর বাগান সামলানোর দায়িত্ব ছিল তাঁর। এরপরই সেই ব্যক্তিকে মামলায় সাক্ষী করেন ইডি। এদিন সেই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। এই মামলায় এই নিয়ে মোট সাতজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিলেন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১২জুন। ওইদিন নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্য পেশ করার কথা। এদিন এই মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তাঁর আইনজীবী বিপ্লব গোস্বামী বলেন, আমার মক্কেল অসুস্থ হয়ে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাই তাঁকে আদালতে হাজির করানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, এই মামলায় আরেক অভিযুক্তের কৌঁসুলি সঞ্জয় দাশগুপ্ত বলেন, এদিন যে সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে ছিলেন, আমরা তাঁকে জেরা করেছি। এদিনই তাঁর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। উনি ওঁনার বক্তব্য পেশ করেছেন। আমাদের তো করণীয় কিছু নেই।