সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সোমবার মাদারিহাট ও হাসিমারার মাঝে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের তোর্সা সেতুতে কন্টেনার উল্টে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হল। এদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত দু’ঘণ্টা এশিয়ান হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রাস্তার দু’পাশে কয়েকশো যানবাহন দাঁড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, এশিয়ান হাইওয়ের এই তীব্র যানজটের প্রভাব পড়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলমুখী জেলার লাইফ লাইন ৩১সি জাতীয় সড়কেও। যানজটের জেরে নাকাল হতে হয় নিত্যযাত্রী ও পরিবহণ কর্মীদের। পরে পুলিস গিয়ে চারটি ক্রেন দিয়ে কন্টেনারটিকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তোর্সা সেতুর দু’দিকেই স্পিড ব্রেকার দেওয়া আছে। সেতুর দক্ষিণ দিকে থাকা স্পিড ব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কন্টেনারটি রাস্তায় উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই স্পিড ব্রেকারের কারণেই গত এক বছরে এশিয়ান হাইওয়ের তোর্সা সেতুতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিত্যযাত্রী, সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ কর্মীরা তোর্সা সেতুর দু’দিকে স্পিড ব্রেকারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম অনুসারে জাতীয় সড়কের মতো এশিয়ান হাইওয়েতেও এগুলো থাকার কথা নয়।
এ বিষয়ে জেলার পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, তোর্সা সেতুর মুখে স্পিড ব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েই কন্টেনারটি উল্টে যায়। ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে তোর্সা সেতুতে ওই স্পিড ব্রেকার আমরা দিইনি। সম্ভবত বনদপ্তরের অনুরোধেই জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তোর্সা সেতুতে এটা করেছে।
হাসিমারা ও মাদারিহাটের মধ্যে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের ওই অংশটুকু জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল চিরে গিয়েছে। সেই কারণে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের এই অংশে প্রায়ই হাতি, বাইসন বা চিতাবাঘ পারাপার করে। অর্থাৎ এলাকাটি বন্যপ্রাণী করিডরের মধ্যে পড়ে। এনএইচআইএর ১০ নম্বর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জিতেন্দ্র প্যাটেল বলেন, বন্যপ্রাণীর রাস্তা পার হওয়ার কারণে বনদপ্তরের অনুরোধেই তোর্সা সেতুর দু’দিকে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছিল। এখন কেউ যদি দেখেশুনে গাড়ি না চালান, তাহলে আমরা কী করতে পারি। নিজস্ব চিত্র।