নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কন্টাই কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের মাত্র একটি ডিরেক্টর আসনে তৃণমূলের দুই নেতার মুখোমুখি লড়াই ঘিরে তপ্ত কাঁথি। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নন্দদুলাল মাইতি বনাম অঞ্চল সভাপতি শ্যামল দাসের মধ্যে এই লড়াই। ডিরেক্টর নির্বাচনে দুরমুঠ অঞ্চল তৃণমূল সভাপতিকে ভোট দেওয়ার জন্য এক বিজেপি নেতা ডেলিগেটদের ফোন করে আবেদন জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার এনিয়ে কাঁথি-৩ ব্লকের লাউদা অঞ্চল তৃণমূল কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই ব্লক থেকে নির্বাচিত ব্যাঙ্কের ডেলিগেট আনন্দময় দাস। প্রবীণ ওই নেতার দাবি, বৃহস্পতিবার এক বিজেপি নেতা তাঁকে ফোন করে শ্যামল দাসকে ভোট দেওয়ার আবেদন করেছেন। নিজের মোবাইলের কললিস্টে সেই ফোন নম্বরও সাংবাদিকদের দেখান আনন্দময়বাবু।
আজ, শনিবার কাঁথিতে অবস্থিত কন্টাই কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের মূল কার্যালয়ে ডিরেক্টর পদে মাত্র একটি আসনে ভোট হবে। সেখানে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী নেই। দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন কাঁথি-৩ ব্লক তৃণমূল সভাপতি নন্দদুলালবাবু। আর একদিকে তৃণমূলেরই দুরমুঠ অঞ্চল সভাপতি শ্যামলবাবু। পাশাপাশি তিনি তাজপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক। ওই কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কে মোট ডিরেক্টর সংখ্যা ১৩জন। আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলেরই ১২জন জয়ী হয়েছেন। কিন্তু, কাঁথি-৩ আসনে ডিরেক্টর পদে দুই নেতার মুখোমুখি লড়াই।
তৃণমূলের জয়ী ৭৮জন ডেলিগেট তাঁদের ভোট দেবেন। আজ, শনিবার একশোর বেশি পুলিসকর্মী ও অফিসারের পাহারায় নির্বাচন হবে। জারি থাকবে ১৬৩ ধারা।
তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা ও কাঁথি-৩ ব্লক কমিটির পক্ষ থেকে ওই আসনে ব্লক সভাপতি নন্দদুলাল মাইতির নাম চূড়ান্ত করা হয়। যদিও তৃণমূলের সমবায় সেলের রাজ্য নেতা আশিস চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত তালিকায় প্রার্থী হিসেবে শ্যামল দাসের নাম রয়েছে। এনিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত। নন্দদুলাল মাইতিকে ওই আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য লাগাতার চেষ্টা করেছেন আশিসবাবু। বৃহস্পতিবারও একাধিকবার পাঁশকুড়ার দলের এক নেতাকে দিয়ে ব্লক সভাপতিকে ফোন করিয়েছেন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বেজ, ব্লক সাধারণ সম্পাদক মানিক দোলাই, ব্যাঙ্কের ডেলিগেট আনন্দময়বাবু সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মানিকবাবু বলেন, শ্যামল দাসের সঙ্গে বিজেপির গোপন বোঝাপড়া রয়েছে। শনিবার ডিরেক্টর নির্বাচনে মোট ৭৮জন ডেলিগেট ভোট দেবেন। তাঁরা সকলেই তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত। অথচ, কাঁথির বিজেপি নেতা তাঁদের কয়েকজনকে বেছে বেছে ফোন করে শ্যামল দাসকে ভোট দিতে বলছেন। তাঁর বিজেপি ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হয় কী?
দুরমুঠ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শ্যামল দাস বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি আমাকে প্রার্থী হিসেবে সিলমোহর দিয়েছেন। দলের নির্দেশে আমি লড়াই করছি। আমার সঙ্গে বিজেপির কোনওরকম সম্পর্ক নেই। বরং আনন্দময় দাসের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ থাকতে পারে। এটা একটা ষড়যন্ত্র। হতাশা থেকে আমাদের দলের একাংশ এসব করাচ্ছে।