অর্ক দে, কলকাতা: শহরে এখনও পরিস্রুত পানীয় জলের পর্যাপ্ত উৎপাদন নেই। তাই শহরবাসীর জলের চাহিদা সামাল দিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মিলিয়ন গ্যালন ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করতে হয় কলকাতা পুরসভাকে। এর বাইরে বেসরকারিভাবে বহু গভীর নলকূপ মাটির তলার জল নিয়মিত তুলছে। কিন্তু পরিবেশের স্বার্থে ভূগর্ভস্থ জল তোলা বন্ধ হওয়া উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করে পরিস্রুত পানীয় জলের উৎপাদন বাড়িয়ে গভীর নলকূপগুলি পুরোপুরি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর কলকাতা পুরসভা। সেই সঙ্গে মাটির নীচে জলের পরিমাণ বাড়াতে বৃষ্টির জল ভূগর্ভে পাঠানোর বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। এর জন্য তৈরি হবে ‘রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড রিচার্জিং পয়েন্ট’। সম্প্রতি মেয়র পরিষদের বৈঠকে এই প্রকল্পে সিলমোহর পড়েছে বলে খবর।
শহরের বুকে মোট ৪৫টি ‘রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং পয়েন্ট’ তৈরি করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। আপাতত ২০টি পয়েন্ট দিয়ে কাজ শুরু হচ্ছে। মূলত শহরের যেসব অঞ্চল বা রাস্তায় জল জমার সমস্যা বেশি, সেখানেই এই ধরনের ইউনিট বসানো হবে। রাস্তার নীচে একপাশে বা ফুটপাতের নীচে ৫০০ বর্গফুট মতো জায়গা পেলে সেখানে এই প্লান্ট তৈরি করা যাবে।
কেমন হবে এই ব্যবস্থা? কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রথমে গালিপিট দিয়ে বৃষ্টির জল মাটির তলায় থাকা একটি ডিসিল্টিং চেম্বারে ঢুকবে। সেখানে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই জল পরিশোধন করা হবে। ভারী পলি বা নোংরা ট্যাঙ্কের তলায় থিতিয়ে পড়বে। রাস্তার উপরে থাকবে ম্যানহোল। যেভাবে ম্যানহোল খুলে নিকাশি পরিষ্কার করা হয়, এক্ষেত্রেও ঠিক সেভাবে ম্যানহোল খুলে ওই চেম্বার পলিমুক্ত করা যাবে। সেই চেম্বারের জল পাইপের মাধ্যমে একটি মাইক্রো ফিল্টারে পৌঁছবে, যেখানে বালি, চারকোল সহ নানা রকম উপকরণের মাধ্যমে সেই জল আরও পরিস্রুত হবে। সেই জল এবার একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে চলে যাবে মূল ট্যাঙ্ক বা চেম্বারে। সেখান থেকে একটি পাইপের মাধ্যমে মাটির ৯০ ফুট নীচে বালি-মাটির স্তরে ‘রিচার্জ’ করা হবে সেই জল। ওই স্তর থেকে প্রাকৃতিকভাবেই পরিস্রুত হতে হতে পৌঁছে যাবে মাটির ৭০০ থেকে ৮০০ ফুট নীচের জলস্তরে। পুরসভার নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিং বলেন, ‘ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে কলকাতা পুরসভা কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে। সেই টাকায় শহরের নিকাশি উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ শুরু হচ্ছে। তার মধ্যেই রয়েছে মাটির তলায় ওয়াটার রিচার্জের এই প্রকল্প।’
এক আধিকারিক বলেন, ‘এক-একটি মূল চেম্বার, যেখান থেকে জল সরাসরি মাটির তলায় যাবে, সেগুলির ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ৫০ হাজার লিটার। সরাসরি বৃষ্টির জল মাটির তলায় পাঠানো উচিত হবে না। কারণ, মাটির উপরে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ জলের সঙ্গে মিশতে পারে। তা সরাসরি ভূগর্ভে পৌঁছলে সেখানকার জলও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। তাই বিভিন্ন পর্যায়ে ফিল্টার করেই সেই জল মাটির নীচে পাঠানো হবে।’